Gold

দুঃস্বপ্নে পরিণত হল দুবাই ভ্রমণ! আবর্জনা ভেবে ১২ লক্ষের সোনা আঁস্তাকুড়ে ফেলল পরিবার, তার পর... হইচই নেটদুনিয়ায়

দুবাইয়ের সংবাদমাধ্যম ‘খালিজ় টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বসবাস করতেন কামিনী কন্নন নামে এক মহিলা। ২০২১ সালে ভারতে ফিরে আসেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৭
Family throw away Gold Worth 12 Lakh rupees in Dubai by mistake, then something bizarre happened

দুঃস্বপ্নে পরিণত হল দুবাই ভ্রমণ। ভুল করে ১২ লক্ষ টাকার সোনা ফেলে দিল এক পরিবার! তার পর? চাঞ্চল্যকর সেই ঘটনাটি ইতিমধ্যেই হইচই ফেলেছে নেটদুনিয়ায়। দুবাইযাত্রা কী ভাবে এক পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতি এবং আশার এক আবেগঘন গল্পে পরিণত হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনাও শুরু করেছেন নেটাগরিকেরা।

Advertisement

দুবাইয়ের সংবাদমাধ্যম ‘খালিজ় টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাশাহিতে বসবাস করতেন কামিনী কন্নন নামে এক মহিলা। ২০২১ সালে ভারতে ফিরে আসেন তিনি। সম্প্রতি, জানুয়ারির শেষে একটি বিয়ে উপলক্ষে আবার দুবাই গিয়েছিলেন কামিনী। ওই সময় সোনার দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে ওঠানামা করছিল। ফলে বছরের পর বছর ধরে জমানো সোনার মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হন কামিনী।

এর মধ্যেই কামিনী দেখেন, তিনি যে থলিতে জমানো সোনা রেখেছিলেন, তা জীর্ণ হয়ে ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই সমস্ত সোনা তিনি অন্য একটি থলিতে স্থানান্তরিত করে ডাইনিং টেবিলে রাখেন। ওই থলিতে চারটি ২২ ক্যারেট সোনার মুদ্রা ছিল। প্রতিটি মুদ্রার ওজন ছিল ৮ গ্রাম। একটি ৫০ গ্রামের ২৪ ক্যারেট সোনার বাটও ছিল সেখানে। সব মিলিয়ে ওই সোনার মোট মূল্য ছিল প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা। কিন্তু ঘর পরিষ্কার করার সময় থলিটি দুর্ঘটনাক্রমে আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেন কামিনীর পুত্র। পরে হুঁশ হয়। বুঝতে পারেন, জমানো সোনা চিরতরে হারিয়েছেন তিনি।

১ ফেব্রুয়ারি সকালে, অর্থাৎ ভারতে ফেরার আগের দিন কামিনী বুঝতে পারেন যে তাঁর সোনাভরা থলি হারিয়ে গিয়েছে। তন্ন তন্ন করে সেই থলি তিনি খুঁজতে শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, নোংরা মনে করে সেই থলি ফেলে দিয়েছেন তাঁর পুত্র। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীকে পুরো বিষয়টি জানান কামিনী। তবে সোনা ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন।

এত বড় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পরেও কামিনীর পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেনি। তিন দিন পরে, অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি কামিনীর পুত্র নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে একটি ফোন পান। জানতে পারেন, আবাসনে কেউ এসে তাঁদের হারানো জিনিসপত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। পরে দেখা যায় যিনি খোঁজখবর করছিলেন তিনি এক জন পুলিশ আধিকারিক। কামিনীর পুত্র পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জানতে পারেন, এক জন জমাদার ওই সোনা খুঁজে পেয়েছেন এবং পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। সোনা হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান কামিনী। খুশি ফেরে পরিবারেরও। সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়েছে সমাজমাধ্যমে। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। অনেকে আবার কামিনীর ভাগ্যের প্রশংসা করেছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন