Bizarre Incident

ডেটে গিয়ে ঘনিষ্ঠ হতে রাজি হননি তরুণ, বাড়ি খুঁজে বার করে ‘ভয় ধরানো’ চিরকুট দিয়ে গেলেন তরুণী!

সমাজমাধ্যমে রেডিটে ওই ‘অস্বাভাবিক’ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তরুণ। জানিয়েছেন, ডেটের আগে তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল এবং রুথই কফি খাওয়া ও একসঙ্গে শরীরচর্চা করার প্রস্তাব দেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৩:০৮
Man claims date partner tracks him down and calls several times, writes creepy letter also

ছবি: সংগৃহীত।

অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়। ডেটেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই দুঃস্বপ্নে পরিণত হল ২৮ বছর বয়সি এক তরুণের কাছে। দিনরাত তাঁকে পিছু করলেন ডেটে যাওয়া তরুণী। উত্ত্যক্ত করলেন। এমনকি বাড়ি গিয়ে ভয় ধরানো চিরকুটও ফেলে এলেন। তেমনটাই দাবি ওই তরুণের।

Advertisement

সমাজমাধ্যমে তরুণ জানিয়েছেন, রুথ নামের ৩০ বছর বয়সি এক মহিলার সঙ্গে এক বার ডেটে গিয়েছিলেন তিনি। ডেটের পর ওই তরুণী যখন ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন তখন তিনি তাতে সায় দেননি। সেখান থেকে চলে যান। তরুণের দাবি, তার পর থেকেই ক্রমাগত আক্রমণাত্মক ফোন কলের শিকার হতে থাকেন তিনি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রুথ নামের ওই তরুণী তাঁর বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বার করেন এবং দরজার সামনে একটি অদ্ভুত এবং ভয় ধরানো চিরকুট রেখে যান।

সমাজমাধ্যমে রেডিটে ওই ‘অস্বাভাবিক’ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তরুণ। জানিয়েছেন, ডেটের আগে তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল এবং রুথই কফি খাওয়া ও একসঙ্গে শরীরচর্চা করার প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি হয়ে যান তরুণ। তরুণ লিখেছেন, ‘‘আমরা জিমে গিয়েছিলাম। বেশ ভাল ভাবেই শরীরচর্চা করেছিলাম। এর পর আমি তাঁকে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তরুণের দাবি, ডেটিং অ্যাপের অ্যাকাউন্টে তরুণীর অন্য নাম ছিল, কিন্তু বাস্তবে অন্য নাম। এ কথা রুথকে জানালে তিনি জানান, তিনি ভাল ইংরেজি বলতে পারেন না এবং অ্যাকাউন্টে তিনি তাঁর ‘মিডল নেম’ বা মধ্যনাম ব্যবহার করেছেন। আমি তাঁর ফোনের পিছনে একটি বাচ্চার ছবিও দেখেছিলাম। তখন তিনি জানান ওই শিশু তাঁর সন্তান। তিনি আরও জানান যে তাঁর আট বছরের বিবাহিত জীবন ছিল এবং সম্প্রতি তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছে।’’

তরুণ জানিয়েছেন, এর পর ওই তরুণী আলোচনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন এবং পরবর্তী ডেটের জন্য নাচ এবং মদ্যপান করতে একটি রেস্তরাঁয় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তরুণ দ্বিধায় পড়ে যান। নিমরাজি হয়ে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিজের বাড়ির পথে রওনা দেন। তরুণ লিখেছেন, ‘‘বাড়ি ফিরে আমি তাঁকে একটি মেসেজ পাঠাই। সেখানে জানাই যে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমার ভাল লেগেছে। কিন্তু আমি আমাদের মধ্যে কোনও বিশেষ টান বা সংযোগ অনুভব করছিলাম না। তাই সম্পর্কটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি মেনে নিলেও বার বার তিনি কারণ জানতে চেয়ে মেসেজ পাঠাতে থাকেন। আমি আবারও জানাই যে আমি আমাদের মধ্যে কোনও সংযোগ অনুভব করছি না এবং তাঁর মঙ্গল কামনা করি।’’

তরুণ জানিয়েছেন, সে রাত থেকেই তাঁকে ক্রমাগত মেসেজ এবং ফোন করতে থাকেন রুথ। তরুণের কথায়, ‘‘আমি তাঁকে থামতে বলি। কিন্তু ওই রাতেই ১১টার মধ্যে আমার কাছে ১০টি ফোন আসে। আমি তাঁর নম্বর ব্লক করে দিই। পর দিন বিভিন্ন নম্বর থেকে প্রায় ২০টি মিসড কল আসে। সেগুলিতে তিনি ভয়েসমেল রেখেছিলেন এবং আমাকে ফোন করার জন্য জোর করছিলেন। আমি সেই সব নম্বর ব্লক করে দিই।’’

তরুণের দাবি, এর পরেও নাছোড়বান্দা ছিলেন রুথ। পর দিন সকালে তিনি তাঁর বাড়ি খুঁজে বার করেন এবং বাড়ির প্রবেশপথে এসে দাঁড়ান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তরুণীর মা রুথকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তরুণ বলেন, ‘‘তিনি আমার ঠিকানা খুঁজে বার করে আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। মা তাঁকে বলেন যে আমি বাড়িতে নেই, তখন তিনি একটা চিরকুট লিখে বাড়ির সামনের সিঁড়িতে ফেলে রেখে চলে যান। কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করে গাড়ি নিয়ে চলে যান। কিন্তু ঘটনাটি আমাকে বেশ আতঙ্কিত করে তুলেছিল।’’

তরুণের দাবি অনুযায়ী চিরকুটে লেখা ছিল যে, ‘‘জানি না তুমি এটা কখনও পড়বে কি না, তবে অন্তত আমি চেষ্টা তো করলাম। কোনও চেষ্টা না করেই হাল ছেড়ে দিতে চাইনি। তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এমনকি বন্ধুদের কাছেও তোমার তথ্য চেয়েছি।’’ সেই চিরকুট পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। তিনি এখন বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কথা ভাবছেন বলেও জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নেটাগরিকদের কাছে পরামর্শও চেয়েছেন তিনি।

পোস্টটি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে হইচই ফেলেছে। এক জন নেটাগরিক পোস্টটি দেখে লিখেছেন, ‘‘বিষয়টা বেশ গুরুতর। যদি এখনও তাঁর প্রোফাইল দেখতে পান, তবে ডেটিং অ্যাপে তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে পারেন।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘আমি হলে স্টকিং বা পিছু নেওয়ার ঘটনার জন্য পুলিশের কাছে রিপোর্ট করার পর ডেটিং অ্যাপেও তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতাম। প্রমাণ থাকলে আপনার অভিযোগ জোরালো হবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন