ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
বেশ কিছু দিন ধরে নিখোঁজ হোটেলের মালিক। তাঁকে খুঁজতে তৈরি করা হল বিশেষ দল। সন্ধান করতে গিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা কোনও সিনেমার থেকে কম নয়। আস্ত মানুষকে খেয়ে নিয়েছে একটি ১৫ ফুট লম্বা কুমির। ভয়াল সরীসৃপের পেট থেকে পাওয়া গিয়েছে দেহাবশেষ। সেই ঘটনার টুকরো ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, হোটের মালিকের নাম গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তা। ৫৯ বছর বয়সি গ্যাব্রিয়েল দক্ষিণ আফ্রিকার কোমাটি নদীর জলে ভেসে গিয়েছিলেন। সেই নদীটিতে যে কুমিরের বাস রয়েছে তা স্থানীয়দের কাছে অজানা নয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের কথামতো তাঁরা নদী এবং সেটির আশপাশের অঞ্চল তল্লাশি করা শুরু করেন। বেশ কিছু দিন খোঁজার পর তাঁরা নদীর পাশে একটি বিকট আকৃতির কুমিরকে শুয়ে থাকতে দেখতে পান। অন্যান্য কুমিরের থেকে তার আকৃতি একটু বেশিই বড় ঠেকছিল এবং সেটি নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। সন্দেহের বশে তাঁরা কুমিরটিকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। উপরমহল থেকে তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তার পর শুরু হয় অভিযান। সেই অভিযানের ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হেলিকপ্টারে দড়ি বেঁধে তোলা হচ্ছে একটি কুমিরকে। কুমিরটির শরীরে প্রাণের চিহ্ন নেই। কারণ, সেটিকে আগেই মেরে ফেলা হয়েছে। সরীসৃপের উপরে দড়ি ধরে ঝুলে রয়েছেন এক তরুণ। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তা সেই সরীসৃপের পেটেই গিয়েছেন কি না তা জানার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কুমিরটি যেখানে শুয়ে ছিল সেখানে প্রথমে দড়িতে ঝুলে থাকা তরুণ পুলিশকে নামানো হয়। তিনি দড়ি আর হারনেসের মাধ্যমে কুমিরটিকে বাঁধেন। তার পর সেটিকে এ ভাবে তুলে আনা হয়। এয়ার লিফটের মাধ্যমে তুলে আনার পর সেটির পেট কেটে দেখা হয়েছে।
হিংস্র সরীসৃপটির পেট থেকে মানুষের শরীরের বিভিন্ন দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। একটি আংটি পরা আঙুল পাওয়া গিয়েছে, যা বাতিস্তার হতে পারে বলে পুলিশদের মনে সন্দেহ জাগিয়েছে। কিন্তু সেটি নিশ্চিত করার জন্য এখনও তদন্ত চলছে। দেহাবশেষ ছাড়াও কুমিরের পেট থেকে ছ’জোড়া জুতো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মানে কুমিরটির ক্ষুধার শিকার গ্যাব্রিয়েল ছাড়া আরও অনেকে হয়েছেন। সেই বিষয়েও তদন্ত করছেন পুলিশ।