Viral Video

গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে পুড়ে গেলেন কনে, সারা জীবন একসঙ্গে থাকার শপথ নিয়ে হাসপাতালেই সিঁদুরদান তরুণের! ভিডিয়ো ভাইরাল

খাবার পরিবেশন করার সময় রান্নার জায়গায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে। আগুন লাগলে তা নেবানোর জন্য লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। হুড়োহুড়ির ফলে তেলভর্তি পাত্র উল্টে গিয়ে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১২:০৩

ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।

বাড়ির মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়েরা এসেছেন। অন্দরমহলে যেন উৎসব লেগেছে। হবু কনের গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের তোড়জোড় চলছিল। আত্মীয়দের পাত পেড়ে খেতে দেওয়াও চলছিল পুরোদমে। সেই সময়ে রান্নার জায়গায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে আগুন লেগে যায়। সেই আগুন নেবানোর জন্য সকলে মিলে হুড়োহুড়ি করতে শুরু করেন। এর ফলে তেলভর্তি পাত্র উল্টে পড়ে আগুন আরও দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। দুর্ঘটনায় কনে-সহ মোট ১১ জনের শরীর আগুনে পুড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সবাই যখন বিয়ে হওয়া নিয়ে চিন্তায়, তখনই এগিয়ে এলেন পাত্র।

Advertisement

সারা জীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসপাতালে গিয়ে কনের সিঁথিতে সিঁদুরদান করলেন। হাসপাতালের ভিতর ফুল দিয়ে সাজিয়ে বিয়ের মণ্ডপ তৈরি করে দিলেন সেখানকার নার্স-চিকিৎসকেরা। নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করতে অনেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)

‘অপরাজিতে’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক তরুণী হাসপাতালের রোগীর পোশাক পরে রয়েছেন। তার উপর লাল ওড়না দিয়ে বিয়ের সাজ সেজেছেন তিনি। তরুণীর পাশে মালা পরে বসে রয়েছেন এক তরুণ। এর পর হাসপাতালের ঘরেই অসুস্থ তরুণীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিলেন তিনি। এই ঘটনাটি কানপুরের ঘতমপুর থানার অন্তর্গত জগন্নাথপুর গ্রামে ঘটেছে। ২২ বছর বয়সি তরুণীর নাম শ্বেতা।

চলতি সপ্তাহেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তাঁর। বুধবার বিকেলে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান উপলক্ষে শ্বেতার বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন আত্মীয়েরা। তাঁদের খাবার পরিবেশন করার সময় রান্নার জায়গায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে। আগুন লাগলে তা নেবানোর জন্য লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। হুড়োহুড়ির ফলে তেলভর্তি পাত্র উল্টে গিয়ে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য সকলে বাড়ি থেকে বেরনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ এবং দমকল বিভাগকে খবর পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, শ্বেতা, শ্বেতার বাবা, ভাই এবং ঠাকুমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে মোট ১১ জনকে সেখানে ভর্তি করানো হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় সকলকে কানপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কঠিন সময়ে শ্বেতার পাশে থাকতে চেয়েছিলেন হবু পাত্র। তাই অপেক্ষা না করে হাসপাতালে চলে যান তিনি। হাসপাতালের নার্স এবং চিকিৎসকেরা ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে দেন। সেখানেই মালাবদল থেকে সিঁদুরদানের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়লে নেটপাড়ার অনেকে ঘটনাটির সঙ্গে ‘বিবাহ’ সিনেমাটির তুলনা করেছেন। ২০০৬ সালে শাহিদ কপূর এবং অমৃতা রাও অভিনীত রোম্যান্টিক ঘরানার এই ছবির চিত্রনাট্য অবিকল একই ছিল। শ্বেতার কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তরুণের প্রশংসা করে নবদম্পতিকে আশীর্বাদে ভরিয়ে দিয়েছেন নেটাগরিকদের অধিকাংশ।

Advertisement
আরও পড়ুন