ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
গুজরাতের দ্বারকায় বিপত্তি। গোমতী ঘাটের কাছে উত্তাল সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ। উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন স্থানীয়েরা। দীর্ঘ ক্ষণের চেষ্টায় উদ্ধার করে হল তাঁকে। কিন্তু উদ্ধারের ঠিক পরের মুহূর্তের ঘটনা অবাক করেছে নেটাগরিকদের। সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনলাইনে বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। বৃদ্ধের নাটকীয় সেই উদ্ধারের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, দ্বারকার গোমতী ঘাটে প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় ভেসে যাচ্ছেন এক বৃদ্ধ। তীরের কাছের ধাপগুলিতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাঝে ওই বৃদ্ধ বাঁচার জন্য লড়াই করছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত একদল মানুষ জড়ো হন এবং কয়েক জন ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধারের জন্য উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিপজ্জনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও উদ্ধারকারী যুবকেরা তাঁর কাছে পৌঁছোনোর এবং তাঁকে নিরাপদ স্থানে টেনে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঢেউয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই বৃদ্ধকে ঘাটের সিঁড়ির দিকে ফিরিয়ে আনেন উদ্ধারকারীরা। এক পর্যায়ে উদ্ধারকাজে সহায়তার সময় এক উদ্ধারকারী যুবককেও ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যেতে দেখা যায়। বেশ কিছু উদ্বেগজনক মুহূর্তের পর অবশেষে ওই বৃদ্ধকে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন তাঁকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে উপরে তুলে আননে। তবে উদ্ধারের ঠিক পরের ভিডিয়োটিতেই এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার পর ঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি ওই বৃদ্ধকে চড় মারেন। সম্ভবত নিজের এবং অন্যদের বিপদের মুখে ফেলার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ বা হতাশা থেকেই তেমনটা করা হয়েছিল। ভিডিয়োর সেই অংশই দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ঘর কা কলেশ’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। উদ্ধারকারীদের সাহসিকতার প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। আবার অনেকে উদ্ধারের পরে বৃদ্ধকে চড় মারার ঘটনার সমালোচনা করে সরব হয়েছেন। এক নেটাগরিক ভি়ডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘উদ্ধার করতে গিয়ে যে মানুষটি প্রায় ভেসে যাচ্ছিলেন, তিনি বেঁচে যাওয়ার পর হাসছিলেন। অথচ এক জন তাঁকে মারধর করছিল।’’ অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, ‘‘ভারতে মানুষ এমন পরিস্থিতিতে নিঃস্বার্থ ভাবে জীবন বাঁচায় ঠিকই, কিন্তু কাণ্ডজ্ঞান বা সাধারণ বুদ্ধির অভাব থাকলে চড় খাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়।’’ তৃতীয় এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘এটিই সাধারণ ভারতীয় মানসিকতা— কারও সাহায্যে এগিয়ে আসা, আর তার পর সেই কঠিন পরিশ্রমের জন্য তাঁকেই মারধর করে শাস্তি দেওয়া।’’