সঙ্কটে পাট শিল্প! —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কড়া অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কুইন্টাল কাঁচা পাট বাজেয়াপ্ত করল জুট কমিশনারের দফতর। মঙ্গলবার জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জুট অ্যান্ড জুট টেক্সটাইলস কন্ট্রোল অর্ডার, ২০১৬ অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার মোট ১৬টি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাট উদ্ধার করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মজুতদারেরা জুট কমিশনার নির্ধারিত আইনি মজুতসীমার বাইরে গিয়ে অনেক বেশি কাঁচা পাট গুদামজাত করে রেখেছিলেন। অভিযোগ, কৃত্রিম ভাবে বাজারে ঘাটতি তৈরি করে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই মজুত করা হয়েছিল।
জুট কমিশনারের দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য পাটকলগুলিতে কাঁচা পাটের ন্যায্য ও সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবিকা সুরক্ষিত রাখা। অভিযুক্ত মজুতদারদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চে এফআইআর দায়েরের জন্য অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত পাটের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাঁরা আইন অনুযায়ী তা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রাখেন।
তবে এই অভিযানের পর শিল্পমহলের একাংশ উদ্বেগও প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, মজুতদারি রোধ করা জরুরি হলেও বাজেয়াপ্ত কাঁচা পাট দীর্ঘ দিন আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের অভিযান চলছে। কিন্তু একবার কাঁচা পাট বাজেয়াপ্ত হলে তা দ্রুত মিলগুলির হাতে পৌঁছোয় না। আইনি জটিলতায় ছ’মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে, ফলে জোগান আরও সঙ্কুচিত হবে।”
শিল্পমহলের একাংশের মতে, দোষী ব্যবসায়ীদের উপর কঠোর জরিমানা আরোপ করে বাজেয়াপ্ত কাঁচা পাট দ্রুত পাটকলগুলিতে সরবরাহ করা হোক, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়। তাঁদের আরও দাবি, বর্তমানে কাঁচা পাটের তীব্র অভাব এবং দাম কুইন্টালপ্রতি ১৩,০০০ টাকারও বেশি হওয়ায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পাটকল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বহু মিল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জোগান স্বাভাবিক না হলে পাটশিল্প আরও গভীর সঙ্কটে পড়তে পারে।