(বাঁ দিকে) হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমি মোল্লা। ক্যানিং থানার সাব-ইনস্পেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মহিলা হোমগার্ডের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক। ক্যানিং থানার সাব ইনস্পেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যকে ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ওই অভিযুক্ত সাব ইনস্পেক্টরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগর থানা এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়েছে তাঁকে।
গ্রেফতারির পরে অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে আলিপুর আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে সাত দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানাতে পারে পুলিশ। কী কারণে ওই মহিলা হোমগার্ডের মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখতে সায়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাঁকে জেরা করে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার হয় মহিলা হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমির দেহ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার বাসিন্দা তিনি। শুক্রবার তাঁকে ফোনে না পেয়ে কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন বোন রুকসানা খাতুন। তিনিই দিদির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হোমগার্ডের পরিবারের দাবি, রেশমি আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাঁকে খুন করা হয়েছে। তারা অভিযোগ তুলেছে ক্যানিং থানারই সাব ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে। ওই মর্মে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার কাকা। তাঁর দাবি, ভাইঝির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই সাব ইনস্পেক্টরের। তা জানাজানি হতেই রেশমিকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ মৃতার আত্মীয়ের।
ক্যানিঙের ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ছয় সদস্যের ওই তদন্তকারী দলের প্রধান করা হয়েছে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্তকে। তবে ওই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের কোনও খোঁজ মিলছিল না। অবশেষে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ধরা পড়লেন তিনি।