Rice Smuggling from School

স্কুল থেকে চাল পাচারের অভিযোগ

কয়েকজন গ্রামবাসী স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে ভ্যানটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এরপরে একটি চালের বস্তা নামিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫৮
স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চাল। 

স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চাল।  — নিজস্ব চিত্র।

নামখানার দ্বারিকনগর হাই স্কুলে মিড-ডে মিলের চাল পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ১৫ কুইন্টাল চাল গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে চাল বোঝাই একটি ভ্যান আটক করেন গ্রামবাসীরা। পুলিশ ভ্যানটি আটক করে এবং রেশন ডিলার তপনকুমার গিরি ও স্কুলের অস্থায়ী শিক্ষক স্বর্ণকমল দেবনাথকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানতে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও তলব করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্কুলের ভিতরে চালের বস্তা একটি ভ্যানে তোলা হচ্ছিল। অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি গোপন রাখতেই কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় রাস্তার আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কয়েকজন গ্রামবাসী স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে ভ্যানটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এরপরে একটি চালের বস্তা নামিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক শ্যামলের দাবি, ‘‘গভীর রাতে স্কুল থেকে মিড-ডে মিলের চাল সরানোর খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমরা চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’’ অভিযোগ অস্বীকার করে রেশন ডিলার তপনকুমার গিরির দাবি, স্থানীয় স্কুল আগে তাঁর কাছ থেকে চাল ধার নিয়েছিল। সেই ধার শোধ করতেই চাল তাঁর গুদামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সব কিছু বৈধ হলে গভীর রাতে এই কাজ করা হল কেন এবং রাস্তার আলোই বা কেন নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চালের পরিমাণ, সরকারি নথি, মজুতের হিসাব ও বিতরণের রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চাল কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দ্বারিকনগর হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলোক নস্করের সঙ্গে ফোন ও এসএমএসে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

রাতে ঘটনাস্থলে যান নামখানার বিডিও সুব্রত মল্লিক। তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট কাকদ্বীপের মহকুমাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আরও পড়ুন