গত রবিবার ফ্রেজারগঞ্জে আটক হন ২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। —নিজস্ব ছবি।
সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। ভোট দিয়ে আবার চলে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে! দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে ২৮ বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করে এমনই তথ্য পেল পুলিশ। তাঁরা প্রত্যেকেই এখন জেল হেফাজতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবীন্দ্রনাথ দাস নামে এক মৎস্যজীবীর কাছে ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশের পরিচয়পত্র মিলেছে। তবে আদতে তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা। কুতুবদিয়া জেলায় তাঁর বাড়ি। গত তিন বছর ধরে কাকদ্বীপে বাড়িভাড়া করে ছিলেন তিনি। বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে অন্য একটি বাড়ি ভাড়া করে চলে যান রবীন্দ্রনাথ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মাস ছয়েক আগে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে রবীন্দ্রনাথ নিজের দেশে ফিরে যান। ভোট দিয়ে আবার ফিরে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গীরাও একই কাজ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২৮ মৎস্যজীবীই অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন কি না, তদন্তসাপেক্ষ।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে ‘এফবি সাগর’ নামে একটি বাংলাদেশি ট্রলার আটক হয় ফ্রেজ়ারগঞ্জে। ২৮ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে সীমান্তবর্তী জলসীমায় প্রবেশ করেছিল ট্রলারটি। ওই ট্রলারে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁদের নথিপত্র যাচাই শুরু হয়েছিল। দুই দেশের পরিচয়পত্র, বাংলাদেশে ভোটদান এবং দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে বসবাস—এই তিনটি বিষয় ঘিরে জলঘোলা হয়। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৮ জন মৎস্যজীবী ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনীর হাতে আটক হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের বক্তব্যে অসঙ্গতি মেলে।
পরে ২৮ জন মৎস্যজীবীকে ফ্রেজ়ারগঞ্জ কোস্টাল থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আটক করা ট্রলারটিকে ফ্রেজ়ারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।