Basirhat Double Death

ভাগ্নেকে খুন করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ মামির! বসিরহাটে পরকীয়ার মর্মান্তিক পরিণতি, জোড়া দেহ উদ্ধার করল পুলিশ

বয়সে বছর খানেক বড় মামির প্রেমে পড়ে তাঁর সঙ্গে বাড়ি ছেড়েছিলেন বছর বত্রিশের যুবক। পরিবারের দাবি, ভাগ্নেকে ভাড়াবাড়িতে খুন করে আত্মহত্যা করেছেন মামি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ঘটনা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২০:২২
Basirhat Deaths

বাড়ি থেকে পালিয়ে মামি-ভাগ্নে সংসার পেতেছিলেন ভাড়াবাড়িতে। ছবি: সংগৃহীত।

ভাগ্নের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মামি। ওই নিয়ে দুই পরিবারেই অশান্তি বেধেছিল। কিন্তু নাছোড় যুগল পালিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। ভাড়াবাড়িতে সংসার পেতেছিলেন তাঁরা। শনিবার সকালে সেই ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হল ভাগ্নের ঝুলন্ত দেহ। মামির দেহ পাওয়া গেল বাড়ির অদূরে রেললাইনে। অভিযোগ, প্রেমিককে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন প্রেমিকা। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম দেবাশিস মণ্ডল। বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। মৃত যুবতীর নাম রুনু মণ্ডল (৩৩)। সম্পর্কে তাঁরা ভাগ্নে এবং মামি। দেবাশিসদের বাড়ি বসিরহাটের ট্যাটরা এলাকায়। মামি-ভাগ্নে পরকীয়ায় জড়ান বছরখানেক আগে। ওই কথা জানাজানি হওয়ার পর দুই পরিবারেই অশান্তি চলছিল। সে জন্য মাসখানেক আগে দু’জনেই বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে তাঁদের খোঁজখবর করেছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু খোঁজ মেলেনি। দেবাশিসের পরিবারের এক সদস্যের দাবি, সম্প্রতি বাবাকে ফোন করে যুবক জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়ি ফিরতে চান। অশান্তির মধ্যে রয়েছেন। তার পর শুক্রবার রাতে একটি ফোন যায় দেবাশিসের বাবার কাছে। ফোনটি করেছিলেন রুনু। অভিযোগ, দেবাশিসের বাবাকে ফোন করে রুনু বলেন, ‘‘ওকে মেরে ফেলেছি। এ বার আমি আত্মহত্যা করব।’’

স্বাভাবিক ভাবে ওই ফোন পেয়ে চমকে যান দেবাশিসের বাবা। তিনি পুত্রের খোঁজখবর শুরু করেন। শনিবার সকালে জানতে পারেন বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন অনন্তপুরে রেললাইনে রুনুর দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার পর দেবাশিসের দেহ মেলে ময়লাকোলা সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ি থেকে। জানা যায়, সেখানেই মামি-ভাগ্নে থাকতেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘরের দরজা ভেঙে যুবকের দেহ উদ্ধার করে তারা।

দুই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোরগোল শুরু হয় এলাকায়। রুনুর পরিবারের কারও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দেবাশিসের পরিবারের অভিযোগ, যুবককে খুন করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রুনু। দেবাশিসের কাকা তপন মণ্ডল বলেন, ‘‘দু’দিন আগে দেবাশিস ওর বাবাকে ফোন করে বলেছিল যে, ‘আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। আমাকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রেখেছে। আমি বাড়ি যেতে চাই।’ তার পরে ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি ওর বাবা। তার পর এই দুঃসংবাদ পেলাম আমরা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ গতকাল রাতে রুনু আমার দাদাকে ফোন করে বলে, দেবাশিসকে মেরে ফেলেছে। এ বার ও মরবে। এই কথা বলেই ফোন কেটে দেয় ও।’’

মৃতের মাসি কণিকা মন্ডলের অভিযোগ, ‘‘আমার বোনপোর সঙ্গে ভাইয়ের স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। আমরা দু’জনকেই বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেউই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেনি। তার পর মাসখানেক আগে দু’জনেই বাড়ি থেকে পালায়। আর আজ এই পরিণতি!’’

পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে তারা।

Advertisement
আরও পড়ুন