Mamata Banerjee and Suvendu Adhikari

পরাজয়ের দু’মাস পরে অবশেষে নয়া মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা মমতার! তৃণমূলের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে রাখলেন কটাক্ষ-কাঁটাও

ভোটে হারার পরে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিতে লোক ভবনে যাননি। ভবানীপুরের হারকে চ্যালেঞ্জ করে কোর্টেও গিয়েছেন। এ বার সেই মমতাই শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২১:৩১
(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৪ মে ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে পরাস্ত হন মমতা। তার পর দু’মাস পেরিয়ে, ৪ জুলাই নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন মমতা। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও যে এককালে তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মমতা।

Advertisement

ভবানীপুরে যে তিনি পরাস্ত হয়েছেন, তা প্রথম থেকেই মানতে নারাজ ছিলেন মমতা। বার বার কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজের ইস্তফাও জমা দিতে যাননি লোক ভবনে। ভবানীপুরের হারকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে হাই কোর্টে গিয়েছেন মমতা। তবে শেষ পর্যন্ত শনিবার সমাজমাধ্যমে এক ভিডিয়োবার্তায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি। গত দু’মাস ধরে যে বিজেপি সরকারকে দৃশ্যত মানতে চাইছিলেন না তিনি, শনিবার সেই নতুন সরকারকেও একপ্রকার মেনে নিলেন। যদিও ‘ভোট লুট’-এর অভিযোগ নিয়ে খোঁচা দিয়ে রাখলেন বিজেপিকে।

শুভেন্দুর সরাসরি নামোল্লেখ করেননি মমতা। তিনি বলেন, “যিনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আমার অনেক শুভেচ্ছা থাকবে।” বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও যে এককালে তৃণমূলে ছিলেন, সে প্রসঙ্গও টেনে আনেন বর্ষীয়ান নেত্রী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনিও নির্বাচনে অনেক বার হেরেছেন। এবং আপনার জন্য আমি বার বার যেতাম আপনার কেন্দ্রে। সেটা আমার কর্তব্য ছিল। এর জন্য আমি কোনও কৃতিত্ব নিচ্ছি না।” বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা নিয়ে মমতা আরও বলেন, “আপনিও প্রায় ১০-১১ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হিসাবে মন্ত্রী ছিলেন। কখনও পরিবহণমন্ত্রী, কখনও সেচমন্ত্রী। কখনও ছ’টি জেলার দায়িত্বে ছিলেন। জেলা পরিষদ, গ্রামসভা, পঞ্চায়েত তৈরিতে সাহায্য করেছেন। সাহায্যের হাতও বাড়িয়েছেন, সাহায্যের হাতও নাড়িয়েছেন। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ, দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ সবটাই তো আমাদের সরকার আপনাদের দিয়ে চালিয়েছে।”

নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছেন মমতা। শনিবারও ফের একপ্রস্ত সেই অভিযোগ তোলেন তিনি। বলেন, “বিজেপি ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে। এটা আমরা সবাই জানি। তা সত্ত্বেও আমরা বলেছি, ঠিক আছে। একটা নতুন সরকার যে ভাবেই হোক এসেছে। তারা কাজ করুক। কিন্তু কাজের বদলে আমরা দেখছি সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে দেওয়ার প্রবণতা চলছে। সন্ত্রাস শুরু হয়েছে।”

কথা প্রসঙ্গে কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরের নেতা-কর্মীদের ‘হেনস্থা’র অভিযোগ নিয়েও সরব হন মমতা। বর্ষীয়ান নেত্রীর অভিযোগ, যে সব অভিযোগের ‘কোনও ভ্যালু নেই’— এমন কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর সঙ্গে থাকা দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিজেপির সরকার যাতে কালীঘাট-তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর কোনও ‘অত্যাচার’ না করে, তা নিয়েও সরব হন মমতা। বললেন, “অত্যাচার করবেন না। মনে রাখবেন, এটা কিন্তু একদিন ফিরে আসতে পারে। প্রতিটি কাজের প্রতিক্রিয়া থাকে। আপনারা যত অত্যাচার করবেন, আমরা তত বাড়ব।” উচ্ছেদ ঘিরে হকারদের উদ্বেগ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের উপরে বিজেপির নতুন সরকারকে নজর দেওয়ার জন্যও বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এ সব দিকে চিন্তা করুক সরকার। আমাদের পুরো সমর্থন পাবে। আমি গঠনমূলক কাজে কখনও বিরোধিতা করি না।

Advertisement
আরও পড়ুন