পেট্রাপোল থানা। — নিজস্ব চিত্র।
অবশেষে নতুন ভবনে আনুষ্ঠানিক ভাবে পেট্রাপোল থানার কাজ শুরু হল। শনিবার ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এলপিএআই)-র পক্ষ থেকে থানার ভবনটি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ বার থেকে নতুন ভবনেই হবে প্রশাসনিক কাজ। কয়েক বছর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে পেট্রাপোল বন্দরের আধুনিক ভবনের উদ্বোধন হলেও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে থানা চালু হয়নি। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করা ভবনটি তৎকালীন তৃণমূল সরকার গ্রহণ করেনি। তবে সরকার পরিবর্তনের পরে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থানা হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এত দিন যে জায়গায় পেট্রাপোল থানা ছিল, তা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ সংলগ্ন এলাকা। সেখানে অভিযোগ জানাতে গেলে সাধারণ মানুষকে বিএসএফের কড়া নিরাপত্তা পেরিয়ে যেতে হয়। গভীর রাতে থানায় যেতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করতেন। পরিচয়পত্র সঙ্গে না-থাকলে থানার কাছাকাছি পৌঁছোনোও কঠিন হয়ে পড়ত। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন মহল থেকে অনুরোধ করছিল, এমন জায়গায় থানা করা হোক, যেখানে যাতায়াত সহজ। তার পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘পেট্রাপোল থানা ২০১৬ সালে চালু হয়েছে। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই থানার জন্য স্থলবন্দর মন্ত্রকের ভবনে জায়গা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেন। এখন সেই জায়গা হস্তান্তর করা হল। বনগাঁ পুলিশ জেলা পেট্রাপোল থানার জন্য খুবই আধুনিক একটি পরিসর পেয়েছে। সেখানে বিশেষ ভাবে সক্ষম, মহিলা এবং সাইবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। রয়েছে লিফ্ট।’’
শনিবারের থানা হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলপিআই চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিংহ, এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ), আইজি (বারাসত) এবং বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক। তাঁদের উপস্থিতিতেই নতুন ভবনটি আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়। পোর্ট ম্যানেজার কমলেশ সাইনি জানান, নতুন বন্দর চালুর সময়ে বিভিন্ন কারণে থানা স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। নতুন ভবনে থানা চালু হলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও এই সীমান্ত বন্দর এলাকায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।