Hilsa Fish

গবেষণাগারে ইলিশের প্রজননের লক্ষ্য

ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন দীর্ঘদিন ধরেই মৎস্যবিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, জীবনের বেশিরভাগ সময়ে সমুদ্রে কাটালেও ডিম পাড়ার জন্য ইলিশ নদীর মিঠে জলে চলে আসে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০১:২০
গবেষণাগারে ছাড়া হচ্ছে ইলিশের পোনা।

গবেষণাগারে ছাড়া হচ্ছে ইলিশের পোনা। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।

কৃত্রিম ভাবে প্রজনন ঘটিয়ে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে শুরু হল গবেষণা। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) অধীন কেন্দ্রীয় লবণাক্ত জলজ চাষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (সিবা) কাকদ্বীপ কৃষক গবেষণা কেন্দ্রে শনিবার পুনঃসঞ্চালনভিত্তিক জলজ চাষ ব্যবস্থা চালু হল। রাজ্যের সুন্দরবন বিষয়ক, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এই গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। বিজ্ঞানীদের আশা, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অনুকরণ করে ভবিষ্যতে কৃত্রিম প্রজননের প্রযুক্তি আয়ত্ত করা সম্ভব হতে পারে।

ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন দীর্ঘদিন ধরেই মৎস্যবিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, জীবনের বেশিরভাগ সময়ে সমুদ্রে কাটালেও ডিম পাড়ার জন্য ইলিশ নদীর মিঠে জলে চলে আসে। এই যাত্রায় জলের লবণাক্ততা, স্রোতের গতি, তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, আলোর পরিবর্তনের মতো একাধিক প্রাকৃতিক উপাদান প্রজননের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের। এই জটিল পরিবেশকে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব না হওয়ায় গবেষণাগারে ইলিশের সফল প্রজনন অধরাই ছিল।

সিবার বিজ্ঞানীদের দাবি, নতুন এই জলজ চাষ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জলের গুণমান, লবণাক্ততা, তাপমাত্রা, অক্সিজেনের মাত্রা এবং প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সমুদ্র থেকে নদীতে প্রবেশের সময় ইলিশ যে পরিবেশের মুখোমুখি হয়, তারই অনুকরণে একটি নিয়ন্ত্রিত বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে ইলিশের আচরণ, প্রজনন এবং জীবনচক্র নিয়ে আরও গবেষণার সুযোগ মিলবে। গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত পোনা নদীতে ছেড়ে ইলিশ উৎপাদনে নতুন পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন নিয়ে গবেষণা চললেও এখনও পুরোপুরি বাণিজ্যিক সাফল্য মেলেনি। সেই প্রেক্ষাপটে কাকদ্বীপে এই গবেষণা পরিকাঠামো গড়ে ওঠা ভারতের মৎস্য গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিবার অধিকর্তা কুলদীপ কে লাল। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন ইত্যাদির জেরে ইলিশের উপর চাপ বাড়ছে। তাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ইলিশের জীবনচক্র সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে সংরক্ষণের কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন।”

এ দিন মাছের বর্জ্য থেকে তৈরি দু’টি জৈব সারেরও উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং উপকূলের মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে যদি ইলিশ সংরক্ষণ এবং কৃত্রিম প্রজননের প্রযুক্তি উন্নত করা যায়, তবে তার সুফল ভবিষ্যতে মৎস্যজীবী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই পাবেন। গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষের প্রসারে রাজ্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”

আরও পড়ুন