(বাঁ দিকে) বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোপাল দাস। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বরুণ সরকার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
নানা অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলরদের ধরপাকড় লেগেই আছে। শুক্রবার রাতে এবং শনিবার ভোরে পর পর আরও দু’জন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক জনের বিরুদ্ধে মাছ চুরির অভিযোগ। অন্য জন জড়িয়ে তোলাবাজি এবং দুর্নীতির সঙ্গে।
বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোপাল দাস। আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, মোটা টাকার বিনিময়ে আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন তিনি। যাঁদের সত্যিই ঘর প্রয়োজন, গোপালকে টাকা দিতে না-পারায় তাঁরা ঘর পেতেন না। অনেকে আবার তাঁকে টাকা দিয়েও ঘর পাননি বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও এলাকার আরও কিছু দুর্নীতির সঙ্গে গোপালের যোগ রয়েছে বলে দাবি করছেন এলাকার মানুষ। অভিযোগ, আবাসের ঘর পাইয়ে দেবেন বলে অনেকের কাছ থেকে অনেক টাকা তুলেছেন গোপাল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁরা কেউ ঘর পাননি। গোপালের বিরুদ্ধে এলাকায় ক্ষোভ ছিলই। কিছু দিন আগে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভও দেখান কয়েক জন। তখন থেকেই কাউন্সিলরকে গ্রেফতারির দাবি উঠেছিল। শুক্রবার রাতে গোপালের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে শনিবার ভোরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, স্থানীয় একটি মাছের ভেড়ি থেকে তিনি মাছ চুরি করছিলেন। এলাকার কয়েক জন সেখানে জড়ো হয়ে কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার ভেড়ি থেকে ইচ্ছামতো মাছ তুলে নিচ্ছিলেন বরুণ। সঙ্গে লোকজনও নিয়ে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় এবং উত্তেজিত এলাকাবাসীর হাত থেকে কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মাছ চুরির অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দিকে দিকে কাউন্সিলরেরা পদত্যাগ করছেন। হুগলির চন্দননগরে একসঙ্গে ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় ভেঙে গিয়েছে পুরবোর্ড। এ ছাড়া, অনেক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু দিন আগে দমদমে ঘর থেকে এক কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই কাউন্সিলর আত্মঘাতী হয়েছেন। এ বার সোনারপুর এবং বসিরহাটে আরও দুই কাউন্সিলর পুলিশের জালে।