Nabadwip Municipality Scam

ত্রাণের ত্রিপল আর শাড়ির স্তূপ ক্লাবে! রাতেই ধৃত পুরসভার চেয়ারম্যান, জুতো ছুড়ল বিক্ষুব্ধ জনতা, নবদ্বীপে উত্তেজনা

শুক্রবার রাতে নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবে অতর্কিতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, ক্লাবের ১০টি ঘরে মজুত করা হয়েছিল ত্রাণসামগ্রী। রাত ৩টের পর পুর চেয়ারম্যানকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৮:৩৯
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে।

নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে। —নিজস্ব চিত্র।

নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সকালে গ্রেফতার করা হয়। বিমানের ফ্ল্যাটের পাশেই একটি ক্লাব থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না-করে সেগুলি ক্লাবঘরে মজুত করে রেখেছিলেন এই তৃণমূল নেতা। রাতে তাঁকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসীরা। বিমানের উদ্দেশে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। কেউ কেউ জুতোও ছু়ড়ে মারেন। সকালে বিমানের পাশাপাশি সৌরভ পাল নামের এলাকার এক তৃণমূলকর্মীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবে অতর্কিতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, ক্লাবের ১০টি ঘরে মজুত করে রাখা হয়েছিল ত্রাণের সামগ্রী। তার মধ্যে ত্রিপল, কম্বলের পাশাপাশি অনেক শাড়িও ছিল। বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের পরার মতো শাড়ি ক্লাবে রেখে দেওয়া হয়েছিল। খবর ছড়াতেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিমানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, সরকারি অর্থে বরাদ্দ এই সমস্ত ত্রাণসামগ্রী বিলিই করা হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে ক্লাবে অবৈধ ভাবে সেগুলি মজুত করে রাখা হয়েছিল। ঘটনাচক্রে, বরালহাট ক্লাবটি ছিল বিমানের ফ্ল্যাটের একেবারে পাশেই। দীর্ঘ ক্ষণ ক্লাবে তল্লাশি চলেছে।

রাত ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ নবদ্বীপ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী বিমানের বাড়ির সামনে পৌঁছোয়। বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও ছিল। বাড়ি থেকে বিমানকে বার করে গাড়িতে তোলে পুলিশ। সেই সময় এলাকায় বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিমানের উদ্দেশে নানাবিধ স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। কেউ জুতো ছোড়েন, কেউ ছোড়েন জলের বোতল। পরিস্থিতি এমন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল যে, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জও করতে হয়েছে।

বিমান অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁকে আদৌ গ্রেফতার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাত্র। তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও দাবি করেছেন বিমান। কিন্তু এত ত্রাণসামগ্রী কেন তাঁর ফ্ল্যাটের পাশের ক্লাবে মজুত করে রাখা ছিল, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান। সকালে তাঁকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করল পুলিশ।

অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুুরেও। সেখানে অবৈধ ভাবে ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুধাংশু নস্কর ওরফে ভাস্করকে। শনিবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ সুধাংশুর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। নেতৃত্বে ছিলেন এসআই অর্ঘ্য মণ্ডল। কেন্দ্রীয় বাহিনীও সঙ্গে ছিল। সুধাংশুর বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে ৭০টি ত্রিপল, ৩০টি কম্বল এবং ছ’টি সিল করা বাসনপত্রের প্যাকেট। কেন তা তাঁর বাড়িতে রাখা ছিল? সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সুধাংশু। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন