US Iran Peace Deal

ট্রাম্পের দুই শর্তে আটকে শান্তির চুক্তি! তেহরানের প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউসে চূড়ান্ত বৈঠকের প্রস্তুতি, কে কতটা পিছু হটবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের একটি সুরক্ষিত কক্ষে তিনি বৈঠক করবেন এবং ইরানের প্রস্তাবগুলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৮:১০
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত। আমেরিকা-ইরানের দ্বন্দ্বের কোনও স্থায়ী সমাধান এখনও মেলেনি। এখনও চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা। গত এপ্রিল মাসে ইরানের সঙ্গে যে মাস দুয়েকের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের মূল দু’টি শর্তেই এখনও শান্তিচুক্তি আটকে রয়েছে। ইরান কোনও ভাবে সেই শর্ত মেনে নিচ্ছে না। আবার আমেরিকাও নাছোড়। শীঘ্রই যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ইরানের প্রস্তাবগুলি নিয়ে হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসতে চলেছেন ট্রাম্প।

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের একটি সুরক্ষিত কক্ষে তিনি বৈঠক করবেন এবং ইরানের প্রস্তাবগুলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের জন্য এর ফলে আরও কিছুটা সময় পাবেন কূটনীতিকেরা। হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক রয়টার্সকে জানান, ‘সিচুয়েশন রুমে’ ঘণ্টাদুয়েক বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন কি না, এখনও স্পষ্ট নয়। ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘আমেরিকার যাতে ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ভাল হয়, তেমন চুক্তিই করবেন ট্রাম্প। ইরানকে কোনও ভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না।’’ ইরানের এক সিনিয়র আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা। তবে এখনও তাতে চূড়ান্ত সম্মতি মেলেনি।

ট্রাম্প ইরানকে দু’টি শর্ত দিয়েছেন। এক, হরমুজ় প্রণালীর উপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে এবং সেখানে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। দুই, ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনও পথ খোলা রাখতে পারবে না ইরান। কোনওটিতেই তেহরান এখনও রাজি হয়নি। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না— এতে ওদের রাজি হতেই হবে। অবিলম্বে হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে হবে। কোনও কর সেখান থেকে যাতায়াতের জন্য আদায় করা যাবে না।’’ ইরান থেকে মাটি খুঁড়ে পারমাণবিক সামগ্রী বার করে আনবে আমেরিকা, দাবি করেছেন ট্রাম্প।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেছে, ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য আসলে যুদ্ধে ‘জয়’ দেখানোর প্রচেষ্টা। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক সংবাদমাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত কেবল ইরান এবং ওমানের হাতে। ইরানের জাহাজের বিরুদ্ধে হরমুজ়ে যে অবরোধ চালাচ্ছে আমেরিকা, তা তুলে নেওয়া না-হলে হরমুজ় প্রণালী খোলা হবে না, দাবি তেহরানের। আবার মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালী থেকে ইরান তার নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নিলে আমেরিকাও ইরানের জাহাজের উপর থেকে অবরোধ ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নেবে। কোন পক্ষ পিছু হটবে, কতটা পিছু হটবে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেই ছবি স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন