Animal Exchange Policy

শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে নতুন বাঘিনি, ব্লাডলাইন বদলে প্রজননে জোর বন দফতরের

প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক থেকে একটি বাঘিনিকে সাফারিতে আনা হবে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এর পরিবর্তে বেঙ্গল সাফারি থেকেও একটি বাঘিনিকে দার্জিলিংয়ের ওই চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৬
A New Tigress Arrives at Siliguri Bengal Safari; Focus Shifts to Breeding Through Bloodline Diversification

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে নতুন অতিথি। অ্যানিমাল এক্সচেঞ্জ বা প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জ়ুওলজিক্যাল পার্ক থেকে একটি বাঘিনিকে সাফারিতে আনা হবে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এর পরিবর্তে বেঙ্গল সাফারি থেকেও একটি বাঘিনিকে দার্জিলিংয়ের ওই চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে। ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে সেন্ট্রাল জ়ু অথরিটি।

Advertisement

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, বাঘের বংশবৃদ্ধিতে নতুনত্ব আনা এবং জিনগত বৈচিত্র বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বেঙ্গল সাফারিতে থাকা অধিকাংশ বাঘ একই বংশের হওয়ায় ‘ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন’-এর ঝুঁকি বাড়ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ব্লাডলাইনে দীর্ঘ দিন প্রজনন চলতে থাকলে শাবকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে এবং মৃত্যুহারও বেড়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে শীলা ও স্নেহাশিস নামে দুটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে বেঙ্গল সাফারির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে ১৪টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাঘ ইতিমধ্যেই আলিপুর-সহ রাজ্যের অন্যান্য চিড়িয়াখানা এবং ভিন্‌রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। বেঙ্গল সাফারির মূল আকর্ষণ ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সাফারি’, যা দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন।

বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য পরিকাঠামোও বাড়ানো হয়েছে। গত বছর প্রায় একশো বিঘা জমি জুড়ে নতুন এনক্লোজ়ার তৈরি করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা। তবুও অধিকাংশ বাঘ একই বংশের হওয়ায় নতুন ব্লাডলাইন তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অন্য দিকে, দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জ়ুওলজিক্যাল পার্কে বর্তমানে দু’টি সাইবেরিয়ান বাঘ ও তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। এই বিনিময় প্রক্রিয়ার ফলে দুই চিড়িয়াখানাতেই জিনগত বৈচিত্র বৃদ্ধি পাবে এবং সুস্থ প্রজননের পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন