অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
অনাগত এক সকালের স্বপ্ন দেখালেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এমআইটি-র এক সভায় বসে, পূর্ব ভারতে কলকাতার গা ঘেঁষা সোনারপুরে এক স্বপ্নের শিক্ষাপ্রাঙ্গণের হাতছানি ছড়িয়ে দিলেন তাবড় সব ভারতীয় বা দেশি-বিদেশি উদ্যোগব্রতী শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে। অভিজিৎ বললেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের সেকেলে সীমান্ত ভেঙে এগনোর কথা ভাবছে ভারতের শিক্ষাপ্রাঙ্গণগুলিও। আমরা তো এমন ক্যাম্পাসের স্বপ্ন দেখি, যেখানে ডাক্তার, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী বা ইঞ্জিনিয়াররা একই সঙ্গে ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি নিয়ে গবেষণার শরিক।”
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, জৈব প্রযুক্তির সঙ্গে সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞানের যোগ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের আরও শাণিত করে তুলবে বলে মনে করেন এমআইটি-র অধ্যাপক অভিজিৎ। নৈতিকতায় সজাগ, বৌদ্ধিকতায় জীবন্ত, বাস্তববোধে সমর্থ পেশাদাররা এ ভাবেই গড়ে ওঠেন। পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অ্যাসোসিয়েট ভিসি, কলকাতার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের প্রাক্তনী, ম্যাকগাওয়ান ইনস্টিটিউট ফর রিজেনারেটিভ মেডিসিনের অধিকর্তা চন্দনকুমার সেনও একই স্বপ্নের সওয়ারি। তিনিও বললেন, “পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সেজে ভারতে এখন আগামী দিনের উপযোগী শিক্ষাপ্রাঙ্গণ চাই। যা শিক্ষার্থীদের নানা ধাঁচের উদ্ভাবনী দক্ষতায় সার-জল দেবে। মুখস্থবিদ্যে না-আঁকড়ে সৃজনশীলতার অজানা সব জানলা খুলবে।” অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি অশোক ত্রিবেদীও গলা মিলিয়েছেন।
দেশবিদেশের বিশিষ্ট এই শিক্ষাব্রতী পণ্ডিতেরা অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাবিত দ্য ইউনিভার্সিটি অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সায়েন্সেস (ইউএইচএইচএস)-এর সম্ভাবনায় আশাবাদী। সোনারপুরে ছ’কাঠা জমিতে গুটিগুটি পায়ে এগনোর কথা ভাবছেন এই প্রতিষ্ঠানের ধাত্রীরা। তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য লিভার ফাউন্ডেশনের কর্ণধার চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরীও এখন এই ছক-ভাঙা স্বাধীন ভবিষ্যমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কথা বলতে আমেরিকায় রয়েছেন।
ভারতে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখন পুঁজির অভাব বা রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ফাঁসে কাহিল। পৃষ্ঠপোষকতা নির্ভর অশোকা, শিব নাদর, আজিম প্রেমজির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আবার মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তদের অনেকটাই অধরা। এই আবহে সর্বজনীন কিন্তু উৎকর্ষে আপসহীন নতুন কিছু করতে তৎপর অভিজিৎ। তবে এ প্রায় ৩০০ কোটির স্বপ্ন! অভিজিৎ তাই দেশে-বিদেশে সহমর্মী শিক্ষাব্রতী বিশেষত কৃতী ভারতীয়, বঙ্গসন্তানদের তাঁর স্বপ্নের শরিক করছেন। তাঁর মতে, “ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলি একটা যুগ সন্ধিক্ষণে সময়ের দাবি মেনে গড়ে ওঠে।” নালন্দা, তক্ষশিলার ঐতিহ্য থেকে সাবেক প্রেসিডেন্সির ডিরোজিওর সাহসী ছাত্রেরা তাঁকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও সমাজবিজ্ঞান, এআই, তথ্যবিজ্ঞান ও আবহবিজ্ঞান থেকে কলা ও নৈতিকতার মিশেলে নতুন কিছুর ভাবনায় তিনি মশগুল। ক্রমশ পিছিয়ে পড়া বাংলাকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মানচিত্রে ফেরানোর সূত্রটিও এই উদ্যোগেমিশে রয়েছে।