(বাঁ দিকে) জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সকাল এবং বিকেল মিলিয়ে শুক্রবার জোড়া ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল। সকালে দল ছাড়ার কথা বলে চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তথা বালু। বিকালে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে বালু সশরীরে হাজির না-হলেও নরেন দীর্ঘ বৈঠক করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতের সঙ্গে। একা নরেন নন। সঙ্গে ছিলেন কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকার তথা ডেভিড। ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটকও।
— নিজস্ব চিত্র।
বালু যেমন তাঁর মধুমেয় রোগের কথা জানিয়ে দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তেমন নরেনও শারীরিক অসুস্থতার কথাই উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে লেখা চিঠিতে। ভোটে বিপর্যয়ের পরে সংগঠনে মমতা যে রদবদল করেছিলেন, সেখানে দলের জাতীয় কর্মসমিতিতে রাখা হয়েছিল বালুকে। আবার নরেনকে দেওয়া হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ জেলার সভাপতির পদ। তাঁরা দু’জনেই পদ ছেড়ে দিলেন। আবার রদবদলের ঋতব্রতের বদলের শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মলয়। তাঁর ভাই যোগ দিয়ে দিলেন ঋতব্রতের সঙ্গে। ফলে শুক্রবার সব দিক থেকেই মমতা ধাক্কা খেলেন।
তালিকা এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসক ফ্রন্টে মমতার অন্যতম আস্থাভাজন নেতা নির্মল মাজিও শুক্রবার ঋতব্রতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক দিকে যেমন মমতার সঙ্গে থাকা নেতারা ঋতব্রতদের দিকে আসছেন। তেমন তহবিল সংক্রান্ত বিষয়েও পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে চাপ বৃদ্ধি করা শুরু করেছে বিদ্রোহী ব্লক। যা কালীঘাটের রক্তচাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নরেন এবং ডেভিডকে পাশে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেছেন, ‘‘ব্যক্তির বদলে সমষ্টির লড়াই করছি আমরা।’’ বাম ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা ঋতব্রতের চিরকালই স্লোগান, উদ্ধৃতি নিয়ে চর্চা রয়েছে। সেই তিনি শুক্রবার লাতিন আমেরিকার প্রতিবাদী গানের লাইন উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘‘এল পুয়েব্লো ইউনিডো, জামাস এরা ভেনসিডো।’’ যার অর্থ, ‘ঐক্যবদ্ধ মানুষের জয় সুনিশ্চিত।’ মানুষকে কতটা ঐক্যবদ্ধ করে ঋতব্রতেরা নেতৃত্ব দিতে পারবেন তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে আপাতত মমতার তৃণমূলকে ভাঙার প্রশ্নে তাঁরা দৃশ্যতই ঐক্যবদ্ধ।