— প্রতীকী চিত্র।
অনুষ্ঠানের নাম ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। সাহিত্য অকাদেমি আয়োজিত সেই ‘সর্বভারতীয় এলজিবিটি এবং নন-এলজিবিটি কবি সম্মেলন’টিই ভেস্তে গেল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় ছিল অনুষ্ঠান। সোমবার দুপুরেই সবার কাছে ই-মেলে অনুষ্ঠানটি আপাতত বন্ধ হওয়ার বার্তা এসে পৌঁছেছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে নাকি অনুষ্ঠানের নাম নিয়ে একাংশের আপত্তিতে এটা ঘটল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক অধিকর্তা দেবেন্দ্রকুমার দেবেশ জানান, প্রথম বার এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর কবিদের নিয়ে সম্মেলন কলকাতাতেই হয়েছে। এর আগে বার দুয়েক এমন অনুষ্ঠান এখানে হয়েছে। এলজিবিটিকিউ এবং নন-এলজিবিটিকিউ বন্ধনীতে ফেলে কবিদের নিয়ে সর্বভারতীয় সম্মেলন সম্ভবত আগে হয়নি। অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ার কারণ নিয়ে মুখ খোলেননি দেবেন্দ্র। তবে দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি সেক্রেটারি এন সুরেশ বাবু বলেন, “অনুষ্ঠানটি কিছু প্রশাসনিক এবং কাঠামোগত বদলের কারণে স্থগিত করা হয়েছে। এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের নির্দেশ। কয়েক দিন বাদেই অনুষ্ঠানটির নতুন দিনক্ষণ বলা হবে।”
ইতিমধ্যে আমন্ত্রণের ভিত্তিতে রূপান্তরকামী সমাজকর্মী কল্কি সুব্রহ্মণ্যম, কেরলের কবি বিজয়রাজমল্লিকার মতো অনেকের আসার কথা ছিল। শিলিগুড়ি থেকে কবি সেবন্তী ঘোষ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের অমিতাভ দেব চৌধুরীও ছিলেন। আসার কার্যত প্রাক-মুহূর্তে ট্রেন বা বিমানের টিকিট বাতিল করতে গিয়ে তাঁরা অনেকেই মুশকিলে পড়েন। প্রশ্ন উঠছে, অকাদেমির তরফেও এত জন অতিথির থাকার বন্দোবস্ত করার পরে এই সিদ্ধান্ত কতটা অনিবার্য ছিল? অকাদেমি কর্তৃপক্ষের কাছে সদুত্তর মেলেনি। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের আগে অকাদেমির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বা বিভিন্ন পদাধিকারী যাঁরা ছিলেন, এখনও তাঁরাই আছেন। তবে এর সঙ্গে অনুষ্ঠান না হওয়ার সম্পর্কও স্পষ্ট হয়নি। অকাদেমির প্রাক্তন উপদেষ্টা লেখিকা মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানটি কেন হচ্ছে না, তা নিয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।
কবি সম্মেলনের নামটি নিয়ে বিতর্কে কারও উষ্মা ছিল, তবে কি নিজেকে এলজিবিটিকিউ মনে করেন না এমন কাউকে এ বার থেকে ‘নন-এলজিবিটিকিউ’ তকমা দেওয়া হবে? কেউ মনে করেন, লিঙ্গ পরিচয় বা যৌন সত্তাকে কোটরে ভরে ফেলা বিষয়টা তর্কসাপেক্ষ। তবে অকাদেমির বোর্ড নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে নাম দিলে তা সাধারণত বদলানো যায় না। আমন্ত্রিত কবি তিস্তা দাস বলেন, “নাম নিয়ে কারও আপত্তি থাকলেও একটা ভাল অনুষ্ঠান হতে দেওয়া যেত।” নাম নিয়ে আপত্তির সঙ্গে অনুষ্ঠান না হওয়ার যোগ নেই বলে এন
সুরেশ বাবু জানিয়েছেন।