—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সংখ্যালঘু ছাত্রীদের বোরখা পরে আসার অনুমতি মিলবে না বলে কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মসূচিতে শামিল হওয়া এক যুবকের বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালা বদল হয়েছে সোমবার। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় হাওড়ার ডোমজুড়ের আজাদ হিন্দ ফৌজ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু ছাত্রীরা উদ্বেগে ভুগতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হন কলেজ কর্তৃপক্ষ। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োটি ছড়ানোয় শুরু হয় শোরগোল।
তবে পুলিশের দাবি, যে যুবক ওই মন্তব্য করেছিলেন, তাঁকে শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতেই থানায় ডেকে সতর্ক করা হয়। তিনি ভবিষ্যতে এমন করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন। যুবককে সংগঠনের কেউ বলে মানতে চায়নি এবিভিপি। তারাও ওই হুঁশিয়ারির নিন্দা করেছে।
কলেজ এলাকার বাসিন্দা ওই যুবককে ভিডিয়োয় বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘এখানে বোরখা পরে আসার অনুমতি মিলবে না। এটা কলেজ, মাদ্রাসা নয়।’’ পাশ থেকে আর এক জনকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘হিন্দু বোনেরা মাথায় ওড়না দিতে পারবে না।’’ তবে তিনি কে, তা স্পষ্ট হয়নি। অভিযুক্ত যুবক শুক্রবার বলেন, ‘‘উত্তেজনার বশে কথাগুলো বলে ফেলেছিলাম। আমি এবিভিপি-র কেউ নই। বিজেপি সমর্থক মাত্র। এ ভাবে বলা উচিত হয়নি। কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে, দুঃখিত।’’
গত ৫ মে দুপুরে এবিভিপি-র কয়েক জন নেতা-কর্মী ওই কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পতাকা খুলে দেওয়ার কর্মসূচিতে যান। সেই দলে ছিলেন অভিযুক্ত যুবকও। কর্মসূচি শেষে বেরিয়ে তিনি ওই কাণ্ড ঘটান বলে অভিযোগ। সে দিন অবশ্য কলেজ ছুটি ছিল। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কানে যায় ওই হুঁশিয়ারি। কলেজের অধ্যক্ষ সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ভিডিয়োটি আমাদের নজরে আসে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়, এ ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। সে মতো পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করি।’’
শুক্রবার কলেজ খোলায় ছাত্রছাত্রীরা এসেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘‘এমন ভাবে পোশাক নিয়ে ফতোয়া জারি করায় চিন্তা হচ্ছিল। পরে শুনলাম, যিনি ফতোয়া দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। আশা করি, আর চিন্তার কিছু নেই।’’ মহম্মদ আনসার নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘‘ভিডিয়োটি দেখে বুঝতে পারছিলাম না মেয়েকে কলেজে পাঠানো ঠিক হবে কি না। পরে, প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করায় মেয়েকে কলেজে নিয়ে এসেছি।’’ অয়ন চোংদার নামে এক ছাত্র বলেন, ‘‘কে, কী পোশাক পরবেন, তা নিয়ে ফতোয়া দেওয়া অনুচিত। প্রত্যেকের নিজের রুচিঅনুযায়ী পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকা উচিত।’’
এবিভিপি-র হাওড়া সদরের যুগ্ম সম্পাদক রাজ সরকার বলেন, ‘‘সব ধর্মের পড়ুয়াদের জন্যই কলেজ। কোনও ধর্মের পোশাক নিয়ে ফতোয়া জারি করা যায় না। পড়ুয়ারা নিশ্চিন্তে কলেজে আসবেন। ওই যুবক আমাদের সংগঠনের কেউ নন।’’ কলেজটি পড়ে জগৎবল্লভপুর বিধানসভায়। সেখানে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী অনুপম ঘোষ বলেন, ‘‘দল এ ধরনের ফতোয়ার বিরোধী। পুলিশকে দল-মত না দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করেছি।’’ তবে তৃণমূলের জগৎবল্লভপুর কেন্দ্র সভাপতি সুবীর চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘এটাই গেরুয়া-সংস্কৃতি।’’