Ritabrata Banerjee

উলুবেড়িয়া মেডিক্যালে দুর্নীতির অভিযোগ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে! তদন্তের অনুরোধ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রতের, যোগ দিলেন বৈঠকে

এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়ী তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে ঋতব্রত ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছিলেন উলুবেড়িয়া নিয়ে। উলুবেড়িয়ার গুটিকয়েক নেতার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। ঋতব্রত জানিয়েছেন, পুরসভা এবং ব্লকের কয়েক জন নেতা যে দুর্নীতি করেছেন বিগত বছরগুলিতে, তার দায় তিনি বিধায়ক হিসাবে নেবেন না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ২০:১৩
Allegations of irregularity in appointment of contractual staff in Uluberia Medical College Hospital, TMC MLA Ritabrata Banerjee demanded investigation

রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উলুবেড়িয়ায়। ছবি: সংগৃহীত।

‘বিদ্রেহী’ মেজাজ থিতু হতে দিচ্ছেন না উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই সমাজমাধ্যমে বৈঠকের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগ আছে। তদন্তের জন্য রাজ্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো।’

Advertisement

কী ধরনের অভিযোগ? বৈঠকে এবং তার পরে হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে ঋতব্রত জেনেছেন, হাসপাতালের সাফাইকর্মী এবং অন্য বিভাগে ২০০-র বেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্ত তাঁরা কাজই করেন না। কাজের কথা বললে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়, তাঁরা ‘উলুবেড়িয়ার সরকারের’ লোক। ঋতব্রতের কথায়, ‘‘মানুষ আমায় বলছেন আপনি জিতেছেন খুশি, উলুবেড়িয়ার সরকারের পতন হয়েছে, তাতেও খুশি। এই উলুবেড়িয়ার সরকার কে বা কারা আমি জানি না। আমার পক্ষে তদন্ত করাও সম্ভব নয়। তাই প্রশাসনকে অনুরোধ করব।’’

এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে ঋতব্রত চিঠিও লিখবেন বলে জানিয়েছেন। তৃণমূল বিধায়কের আরও বক্তব্য, রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। তা হল, উলুবেড়িয়ার বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনের একটি অংশের তলায়-তলায় বোঝাপড়া। যার ভিত্তি বহু অনৈতিক কাজ হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঋতব্রত এই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়ী তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে ঋতব্রত ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছিলেন উলুবেড়িয়া নিয়ে। উলুবেড়িয়ার গুটিকয়েক নেতার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। ঋতব্রত জানিয়েছেন, পুরসভা এবং ব্লকের কয়েক জন নেতা যে দুর্নীতি করেছেন বিগত বছরগুলিতে, তার দায় তিনি বিধায়ক হিসাবে নেবেন না। এমনও বলেছেন, ওই নেতারাই তাঁকে হারাতে অন্তর্ঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের এড়িয়ে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বুধবারও তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, পুরনো পাপের বোঝা তিনি বইবেন না।

রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদের বক্তব্য ছিল তিনি দুর্নীতিগ্রস্তদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছেন বলে পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের তরফে ‘বার্তা’ দেওয়া হয়েছিল, এ সবের দরকার নেই। কিন্তু তিনি নাছোড় মনোভাব দেখানোয় আই-প্যাক আশ্বাস দিয়েছিল ভোটের পরে ব্যবস্থাগ্রহণ হবে। তবে পরামর্শদাতা সংস্থার পরামর্শ ছিল, এক বড় নেতার সম্পর্কে তিনি যেন কিছু না-বলেন। হাওড়া গ্রামীণের সেই নেতার সঙ্গে কি তা হলে দুর্নীতির সম্পর্ক ছিল? সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক।

কালীঘাটের বৈঠক থেকে সেই যে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন ঋতব্রত, তা জারি রেখেছেন। মঙ্গলবার বিধানসভায় স্পিকারের কক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দেখা করে বেশ খানিক ক্ষণ কথা বলেছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহাও। যে দু’জন তৃণমূলের বিধায়কগোষ্ঠীতে বিদ্রোহের ‘কৃশানু-বিকাশ’ জুটিতে পরিণত হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন