অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র পরিকাঠামো গড়ার উদ্দেশ্যে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। শুরু করেছেন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্যছাড়া করার প্রক্রিয়া। শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বৃহস্পতিবার গান্ধীনগরে এক সভায় শাহ বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকার সময় প্রতি দিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। আমাদের সরকার আসার পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।’’ নিজের সংসদীয় কেন্দ্রে জনসভা থেকে শাহ জানিয়েছেন, যে সব বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আগে এমনই ঘোষণা করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁদের গ্রেফতার করে ফেরত পাঠানোর জন্য সরাসরি তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে।
এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফ-কে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, ওই জমিতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বিএসএফের নতুন আউটপোস্ট (সীমান্ত চৌকি) তৈরি করা হবে। কোন জেলায় ঠিক কত পরিমাণ জমি দেওয়া হয়েছে, বুধবার রাতে তা-ও নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদেই। অন্য দিকে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জনবিন্যাসের চরিত্রের বদল খতিয়ে দেখতে কমিটি মঙ্গলবার উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছেন শাহ। আগামী দিনে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে (বিএসএফের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা) জনবিন্যাসের চরিত্র বদল হচ্ছে কি না, তা নজর রাখার জন্য বিএসএফকে বুধবার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ বার স্পষ্ট ভাষায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে সমর্থন করলেন।