Siddaramaiah

‘জাতীয় রাজনীতিতে উৎসাহ নেই’, মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে সিদ্দারামাইয়া জানালেন, রাজ্যসভায় যাচ্ছেন না

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে হাইকমান্ডের তরফে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অথবা রাজ্যসভা সাংসদের পদ বেছে নিতে বলা হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১৭:৪৩
Resigned Karnataka CM Siddaramaiah declines Congress High Command’s Rajya Sabha offer

সিদ্দারামাইয়া। —ফাইল চিত্র।

কংগ্রেস হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু হাইকমান্ডের তরফে আসন্ন রাজ্যসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে জানিয়ে দিলেন সিদ্দারামাইয়া। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কন্নড় রাজনীতির প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বললেন, ‘‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার উৎসাহ নেই।’’

Advertisement

তবে সেই সঙ্গেই সিদ্দারামাইয়া বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকছেন। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘জাতীয় রাজনীতি নয়, আমার মূল মনোযোগ রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবে।’’ কংগ্রেস সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে হাইকমান্ডের তরফে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি (ঘটনাচক্রে, যে পদে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পদে সিদ্দারামাইয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি ডিকে শিবকুমার) অথবা রাজ্যসভা সাংসদের পদ বেছে নিতে বলা হয়েছিল। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন না তিনি।

সিদ্দারামাইয়া কর্নাটক রাজনীতির প্রভাবশালী অনগ্রসর (ওবিসি) কুরুবা জনগোষ্ঠীর নেতা। বিধানসভা ভোটের দু’বছর আগে ওবিসি ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিদ্দারামাইয়া নিজেও রাজ্য রাজনীতিতে থাকার কথা বলে সেই জল্পনাই উস্কে দিয়েছেন। এ ছাড়া সিদ্দারামাইয়ার পুত্র যতীন্দ্র কর্নাটক বিধান পরিষদের সদস্য। পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তাঁর ঠাঁই পাওয়া কার্যত নিশ্চিত বলেই দলের একটি সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাসে কর্নাটকে বিধানসভা ভোটে জয়ের পরে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করার সময় কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব আশ্বাস দিয়েছিলেন, আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রী করা হবে শিবকুমারকে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্ব সমান ভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে দুই নেতার মধ্যে। গত অক্টোবরে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আড়াই বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন সিদ্দারামাইয়া। তার পরেই সেই ‘প্রতিশ্রুতির সম্মান’ রাখার দাবি তুলেছিলেন শিবকুমার-ঘনিষ্ঠেরা।

অবশেষে বৃহস্পতিবার দুই নেতার প্রাতরাশ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন সিদ্দারামাইয়া। শিবকুমারের সঙ্গে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘দু’বার আমাকে মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত করে কর্নাটকবাসীর সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে। তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি রাজ্য রাজনীতিতেই থাকব। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং সংবিধান বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’’ নিজের বাংলো থেকে লোকভবন যাওয়ার পরে সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ইস্তফা না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি এখনও দু’বছর বিধায়ক থাকব। কর্নাটকবাসীর জন্য কাজ করে যাব।’’

Advertisement
আরও পড়ুন