Lalbazar

দুষ্কৃতীদের তালিকা ফের দিতে নির্দেশ সব থানাকে

লালবাজার সূত্রের খবর, প্রতিটি থানাকে দুষ্কৃতীদের নামের তালিকা তিন ভাগে ভাগ করতে বলা হয়েছে। ওই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সোমবারের মধ্যে তা থানাগুলিকে জানাতে বলেছে লালবাজার।

শিবাজী দে সরকার
শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৪

— প্রতীকী চিত্র।

থানার তৈরি করা দুষ্কৃতীদের তালিকায় (রাফ রেজিস্টার) দক্ষিণ কলকাতার দাগি অপরাধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর নাম না থাকায় নিলম্বিত করা হয়েছে কসবা থানার ওসিকে। যা থেকে আরও এক বার স্পষ্ট যে, বিভিন্ন থানা তাদের এলাকার দুষ্কৃতীদের তালিকা আপডেট করেনি অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে দুষ্কৃতীদের নাম বাদ দিয়েছে। এ বার তাই নতুন করে দুষ্কৃতীদের তালিকা বানিয়ে লালবাজারে জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

লালবাজার সূত্রের খবর, প্রতিটি থানাকে দুষ্কৃতীদের নামের তালিকা তিন ভাগে ভাগ করতে বলা হয়েছে। ওই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সোমবারের মধ্যে তা থানাগুলিকে জানাতে বলেছে লালবাজার। নির্বাচন কমিশনের আশা, ওসি-র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরে থানাগুলি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানায় রাফ রেজিস্টার থাকে। যেখানে এলাকার দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা থাকে। সংশ্লিষ্ট থানা এলাকায় কোন কোন সমাজবিরোধী বা দুষ্কৃতী সক্রিয়কিংবা কোন কোন দুষ্কৃতী মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাদের নাম-ঠিকানা বিশেষ খাতায় নথিবদ্ধ করা হয়। একেই বলা হয় রাফরেজিস্টার বা দুষ্কৃতীদের তালিকা-খাতা। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে এবং এলাকায় শান্তি বজায়রাখতে দুষ্কৃতীদের কর্মকাণ্ড এবং গতিবিধি সম্পর্কে থানাগুলিকে সচেতন করা প্রয়োজন। তাই নির্বাচন কমিশন ওই তালিকা তৈরি করে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার উপরে জোর দিয়েছে।

লালবাজার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে থানাগুলিকে ওই দুষ্কৃতীদের তালিকা ফের তৈরি করতেবলা হয়েছে। যেখানে নামথাকবে তিন ধরনের দুষ্কৃতীরই। এক, যারা থানা এলাকার বাসিন্দা এবংসেই এলাকাতেই অপরাধমূলক কাজ করে থাকে। দুই, বড় বড় দুষ্কৃতী, যারা সংশ্লিষ্ট থানা এলাকারবাইরের বাসিন্দা হলেও অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে সেই থানা এলাকায়। তিন, উঠতি দুষ্কৃতী। যারা সদ্য অপরাধ জগতে পা রাখতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই দুষ্কৃতী বা অপরাধীদের নামের তালিকার পাশাপাশি তাদের বাড়ির ঠিকানা এবং ফোন নম্বরও জানাতে বলা হয়েছে থানাগুলিকে। এর জন্য একটিফরম্যাট সব থানাকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে নাম-ঠিকানার পাশাপাশি, কী মামলা রয়েছে এবং সেই মামলার ভিত্তিতে পুলিশ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, ওই ফোন নম্বর এবং বাড়ির ঠিকানা ধরে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।

আরও পড়ুন