প্রতিবাদে শামিল অনিকেত। নিজস্ব চিত্র ।
এক দিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করে। এক দিন পরে বৃহস্পতিবার আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ, সেই অনিকেত মাহাতো পথে নামলেন। আরজি কর-কাণ্ডে ন্যায়বিচার চেয়ে নিউ টাউনে সিবিআই দফতর অভিযান করে ‘ভয়েস অফ অভয়া, ভয়েস অফ উইমেন’ সংগঠন। সেই সংগঠনের সঙ্গেই প্রতিবাদে শামিল হন অনিকেত। সিবিআই দফতরের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড করে। সেখানে তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়।
সংগঠনের তরফে জানানো হয়, আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ এবং খুনের পরে ১৭ মাস কেটে গেলেও ন্যায়বিচার মেলেনি। তাই বৃহস্পতিবার সিবিআই দফতর অভিযানের ডাক দিয়েছিল তারা। সংগঠনের সম্পাদক বিপ্লব চন্দের দাবি, সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা সদুত্তর দেননি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট নিয়ে। তিনি জানান, সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া হবে। কিন্তু কবে, তা নির্দিষ্ট করেননি। দফতরের বাইরে পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদীদের ধাক্কাধাক্কি হয় বলেও অভিযোগ।
অনিকেত পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ট্রাস্টের সভাপতি পদে ছিলেন তিনি। বছরের প্রথম দিনেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে। অনিকেতের চিঠিতে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের এগ্জ়িকিউটিভ কমিটি তৈরি নিয়ে ট্রাস্টের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের ইঙ্গিত রয়েছে। অনিকেতের অভিযোগ, আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাস্টের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক স্থির না করেই কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। একে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং নির্যাতিতার জন্য ‘ন্যায়বিচারের দাবি আন্দোলনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন অনিকেত।
তার পরে সিনিয়র রেসিডেন্ট (এসআর) পদে যোগ দিতে ইচ্ছুক নন বলে স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি দেন অনিকেত। অনিকেতের দাবি, কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও তাঁকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে বহাল করা হয়নি। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বুধবার ফ্রন্টের তরফে দাবি করা হয়েছে, পোস্টিং নিয়ে তাদের টাকায় মামলা লড়েছিলেন অনিকেত। স্বাস্থ্যসচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেও পিছপা হচ্ছেন। বন্ড পোস্টিং ছাড়ার জন্য সরকারকে টাকা দেওয়ার জন্য অনিকেত যে সহযোগিতা সাধারণ মানুষের থেকে চাইছেন, তার দায় সংগঠন নেবে না।