শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।
পাঁচ বছরে প্রথম বার লিখিত প্রশ্ন জমা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে বাতিল থাকছে প্রশ্নোত্তর-পর্বই! ফলে, বিরোধী দলনেতার নামে এই মুহূর্তে জমা প্রায় ৭০টি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকছে না ‘ভোট অন অ্যাকাউন্টস’ উপলক্ষ্যে বসতে চলা অধিবেশনে। বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনের প্রথমার্ধ শুধু ‘প্রশ্নহীন’ থাকছে তা-ই নয়, থাকছে না উল্লেখ-পর্ব বা দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাবের সুযোগও।
রাজ্যে বিধানসভা ভোট আসন্ন। তাই পূর্ণাঙ্গ বাজেটের বদলে এ বার অন্তর্বর্তীকালীন ব্যয় অনুমোদনের জন্য ‘ভোট অন অ্যাকাউন্টস’ পাশ করিয়ে নিতে বিধানসভার অধিবেশন বসছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। খুব দীর্ঘ না হলেও ভোটের আবহে এ বারের অধিবেশন উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। কিন্তু এই অবস্থায় প্রশ্নোত্তর-পর্ব না করার ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেরই ধারণা, ভোটের আগে বিরোধীদের প্রশ্ন এড়াতেই সরকার পক্ষ এই পথ নিতে চলেছে। বিধানসভার সচিবালয়ের একটি সূত্র অবশ্য বলছে, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। অধিবেশনের কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে কার্য উপদেষ্টা ( বিএ) কমিটির বৈঠকে।
সূত্রের খবর, বিদায়ী বিধানসভার অধিবেশনগুলিতে শাসক ও বিরোধী সংঘাত বারবার চরমে পৌঁছেছে। এবং সেই বিবাদের সূত্রেই প্রশ্ন ও বিতর্কে অংশ নিয়েছেন শুভেন্দু। প্রায় প্রতি বছর বাজেট অধিবেশনেও অংশ নিয়েছেন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলনেতার বিতর্কের সুর কখনও কখনও পরিষদীয় রাজনীতির পরিচিত সীমা ছাড়িয়েছে। তবে এ বারের শেষ অধিবেশনের জন্য স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পঞ্চায়েত-সহ একাধিক দফতরের বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন জমা করেছেন শুভেন্দু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশ্নোত্তর-পর্ব না থাকলে সে সব প্রশ্ন তামাদি হয়ে যাবে। ভোটের পরে পরবর্তী বিধানসভায় সেগুলি আর প্রাসঙ্গিক থাকবে না। বিরোধী দলনেতার প্রশ্ন এড়াতেই কি এই ভাবনা? সরকার পক্ষের এক নেতার কথায়, ‘‘বিধানসভায় ওই রকম দলভিত্তিক বিভাজন দেখা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে না সরকার পক্ষের বিধায়কদেরও।’’
অধিবেশনের কর্মসূচি যে বিএ কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হয়, সেখানে সরকার পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তা ছাড়া, চলতি বিধানসভায় বহু দিন ধরেই এই বৈঠক ‘বয়কট’ করেছে বিরোধী দল বিজেপি। তাই প্রশ্নোত্তর-পর্ব বা অন্য বিষয় বাদ রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।