গঙ্গাসাগর উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসন। —ফাইল চিত্র।
রাত পোহালেই মকর সংক্রান্তি। সেই উপলক্ষে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে সাগরদ্বীপে। গঙ্গাসাগর মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সড়কের উপর হকার বসানো, পার্কিং কিংবা অটো স্ট্যান্ড রাখার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। যে সব জায়গায় এই ধরনের দখলদারি ছিল, সেগুলি আপাতত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
১২ জানুয়ারি থেকে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের অনুমান, মঙ্গলবার থেকেই সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। কারণ, বুধবার মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে সাগরদ্বীপে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিপুল যাত্রীস্রোতের বড় অংশই জাতীয় সড়ক ধরে সড়কপথে সাগরদ্বীপে পৌঁছোন। ধর্মতলা থেকে বাসে কাকদ্বীপের লট নম্বর আটে, সেখান থেকে ভেসেলে কচুবেড়িয়া এবং পরে আবার বাসে করে মেলাপ্রাঙ্গণে পৌঁছান পুণ্যার্থীরা। এই যাত্রাপথে যাতে কোনও ভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই জাতীয় সড়ককে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক।
নিরাপত্তা ও সুবিধার স্বার্থে জাতীয় সড়কের যে সব অংশে স্থায়ী স্ট্রিট লাইট নেই, সেখানে অস্থায়ী ভাবে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। উস্তি রোড, খড়িবেড়িয়া থেকে বিষ্ণুপুর থানা, শিরাকল থেকে কপাটহাট, ফলতার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বঙ্গনগর— এই সব জায়গায় অতিরিক্ত আলো বসানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করে দিনে-রাতে নজরদারি চালানো হবে। পৈলান থেকে হটুগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ২২টি অস্থায়ী পুলিশ বুথ বসানো হয়েছে। যে কোনও সমস্যায় পুণ্যার্থীরা এখান থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাবেন। সব মিলিয়ে মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৬০০ প্রশিক্ষিত হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিন জেলার পুলিশকর্মী। যানজটপ্রবণ আমতলা, খড়িবেড়িয়া ও নেতড়া মোড়ে বাড়তি নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া গোটা রাস্তাৎজুড়ে রাখা হয়েছে সাতটি ব্রেকডাউন ভ্যান, যাতে কোনও যান খারাপ হলে দ্রুত সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।