মোদীর জনসভার প্রস্তুতি। নিজস্ব চিত্র ।
সময়ের ব্যবধান ৪৪ বছর। ১৯৮২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরে আজ, শনিবার কালনায় সভা করতে আসছেন আর এক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কালনা ১ ব্লকের সিমলনে সভা করবেন তিনি। সভা ঘিরে উৎসাহ তুঙ্গে এলাকায়।
সম্প্রতি পূর্বস্থলী দক্ষিণের নিমতলা মাঠে সভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই জেলার ১৪ জন বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে কালনায় মোদীর সভা হবে বলে জানান দলীয় নেতৃত্ব। সিমলনে কালনা-বর্ধমান রোড লাগোয়া অনাবাদি জমি চিহ্নিত করা হয় সে জন্য। জমির মালিকদের লিখিত অনুমতি নিয়ে চূড়ান্ত হয় সভাস্থল।
শুক্রবার সিমলনে গিয়ে দেখা গেল, প্রস্তুতি প্রায় শেষ। পাকা রাস্তা থেকে সভাস্থল পর্যন্ত যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি রাস্তা। বুধবারের বৃষ্টিতে মাঠে জল জমায় এ দিন নতুন করে মাটি ফেলে রোলার দিয়ে তা সমান করা হয়েছে। মঞ্চ তৈরি হয়েছে বড় এলাকা জুড়ে। মাঠের কিছুটা অংশ ছাউনি দেওয়া হলেও, তার বাইরেও রয়েছে খোলা জায়গা।
রাজ্য পুলিশের কর্তারা এ দিন এসে সভাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসি ক্যামেরায়। সভাস্থলের পিছনে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তৈরি হয়েছে তিনটি হেলিপ্যাড। সেখান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ আলাদা রাস্তা তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য। বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ সিমলনে পৌঁছবে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। সেখান থেকে গাড়িতে সভাস্থলে পৌঁছবেন তিনি। বিজেপির এক জেলা নেতার দাবি, কালনা, পূর্বস্থলী উত্তর, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, মন্তেশ্বর, মেমারির মতো লাগোয়া বিধানসভাগুলি থেকেই ১০ হাজার করে মানুষ আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। দূরের বিধানসভাগুলি থেকে অন্তত পাঁচ হাজার। কেউ আসবেন বাসে, কেউ ট্রাক্টর বা ম্যাটাডোরে। কাটোয়া-সহ কয়েকটি এলাকা থেকে লোক আসবেন ট্রেনে।
চার দশক পরে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে উৎসাহ চরমে। শুক্রবার থেকেই বহু মানুষ ভিড় করছেন সভাস্থলে। কালনার প্রবীণ আইনজীবী জয়দেব কর বলেন, “১৯৮২ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সভায় গিয়েছিলাম। তাঁর ব্যক্তিত্ব আর বক্তৃতা আজও ভুলতে পারিনি। এত বছর পরে আবার এক জন প্রধানমন্ত্রী আমাদের এলাকায় আসছেন, তাঁকেও দেখতে চাই।”
বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি ধনঞ্জয় মণ্ডলের দাবি, “প্রধানমন্ত্রীর সভায় এক লক্ষ মানুষ আসবেন। তাঁর বার্তা শুনে মানুষ শাসকের বিরুদ্ধে সরব হবে।”