ভেঙে পড়ার পরে। নিজস্ব চিত্র ।
রাজবাড়ির দুর্গামন্দির, হোমিয়োপ্যাথি কলেজ, মহন্তস্থল থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি শতাব্দী প্রাচীন বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে গত কয়েক বছরে। সেই তালিকায় এ বার জুড়ল বর্ধমানের রাধানগর পাড়ার প্রাচীন একটি বাড়ি, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বর্ধমান পুরসভার প্রথম দিকের পুরপ্রধান নলিনাক্ষ বসুর নাম। তাঁর উত্তরাধিকারীদের থেকে বাড়িটি কিনেছিলেন বর্ধমানের প্রাক্তন শিক্ষক শিশির সামন্ত। পুরসভা জানিয়েছে, বুধবার সকালে ওই লালবাড়িটির একাংশ ভেঙে পড়ে। বাড়ির বিপজ্জনক অংশ দ্রুত ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন আলাদা নোটিস দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দু’দিন আগে বৃষ্টির সময়ে বাড়ির ওই অংশটি হেলে পড়েছিল। সেই দিনই এলাকাবাসী বাড়ির মালিকের কাছে বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছিলেন। বুধবার দুপুরে ওই অংশ ভেঙে পড়লে দু’জন জখম হন। এক জন টোটোচালক গুরুতর জখম হয়ে বর্ধমান মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। জখম হয়েছেন স্থানীয় দোকানদার শেখ লালন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই বাড়ির নীচে টোটো মেরামতির কাজ চলছিল। দাঁড়িয়েছিলেন কাঞ্চননগরের বাসিন্দা, টোটোচালক স্বপন ঘরামি। তিনি ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন। কয়েকটি সাইকেলের ক্ষতি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিকট শব্দে বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়তেই আতঙ্ক ছড়ায়। এলাকার বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহত টোটোচালককে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যালে নিয়ে যান।
লালনের অভিযোগ, “এর আগেও দু'বার বাড়িটির অংশ বিশেষ ভেঙে পড়েছিল। মালিককে একাধিক বার বলা হলেও বাড়িটির সংস্কার হয়নি। বুধবার বাড়ির দেওয়ালের সঙ্গে লেগে থাকা গাছ কাটা হচ্ছিল। আচমকা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে।” পড়শি সোমনাথ দাসের দাবি, “বাড়ির সামনে স্কুল রয়েছে। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকেরা যাতায়াত করেন। বড় বিপদ ঘটতে পারত। অবিলম্বে বাড়িটি ভেঙে দেওয়া উচিত।” স্থানীয়দের দাবি, নলিনাক্ষ বসুর পরিবারের থেকে বাড়িটি কেনার পরে আর সেটির সংস্কার হয়নি। বাড়িটি প্রায় ১২০-২৫ বছরের পুরনো। টানা বৃষ্টির কারণে বাড়ির ওই অংশ ভেঙে পড়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিজেপির বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, “পুরসভার গাফিলতির কারণে বাড়ি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটেছে। শহরের বিপজ্জনক বাড়িগুলিকে চিহ্নিত করা উচিত ছিল।” বর্ধমানের পুরপ্রধান পরেশ সরকার বলেন, “খবর পাওয়ার পরে আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। ওই বাড়ির বিপজ্জনক অংশ ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। আমিও গিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়ির মালিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।” বাড়ির মালিকের এক আত্মীয়ের দাবি, “ঘটনার পরে জখমকে নিয়ে শিশিরবাবু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তার পরে আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফোনেও সাড়া মিলছে না।’’