Durgapur Murder Case

খুন করে দেহে মাখানো হয়েছিল নুন, তাই দুর্গন্ধ মেলেনি! দুর্গাপুরে পরিত্যক্ত আবাসনে মিলল মহিলার কঙ্কাল

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার দেহে নুন ঢালা হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত পচন না ধরে এবং দুর্গন্ধ ঢাকা যায়, তাই এই পন্থা নিয়েছিলেন খুনি। হয়তো পরে দেহ অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছক ছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৮
Durgapur Murder Case

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কয়েক দিন ধরে খোঁজ মিলছিল না দুর্গাপুরের ইস্পাত হাসপাতালের এক আয়ার। মঙ্গলবার তাঁর কঙ্কালসার দেহ পাওয়া গিয়েছে ইস্পাতনগরীর পরিত্যক্ত একটি আবাসন থেকে। এ নিয়ে শোরগোল এলাকায়। খুনের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আয়ার স্বামী।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম ছবি দাস। বয়স ৫৫ বছর। ইস্পাত কারখানায় আয়ার কাজ করতেন তিনি। ছবির স্বামীর নাম প্রদীপ চক্রবর্তী। আগে ঠিকাশ্রমিকের কাজ করতেন। এখন তেমন কিছু করেন না। দুর্গাপুর থানার সেক্টর-ডি মার্কেটের কাছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ের ঠিক পাশেই একটি পরিত্যক্ত আবাসনে থাকতেন নিঃসন্তান দম্পতি। মঙ্গলবার দুর্গন্ধ পেয়ে ওই আবাসনের একটি ঘরে ঢুকে চমকে যান স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা। তাঁরা দেখেন, একটি কঙ্কালসার দেহ পড়ে রয়েছে ঘরে।

মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। খোঁজ শুরু হয় ছবির স্বামীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রদীপই স্ত্রীকে খুন করেছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার দেহে নুন ঢালা হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত পচন না ধরে এবং দুর্গন্ধ ঢাকা যায়, তাই এই পন্থা নিয়েছিলেন খুনি। হয়তো পরে দেহ অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছক ছিল। ছবির মৃত্যু কবে হয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। দেহে নুন ছড়ানো হয়েছিল বলেই হয়তো প্রথমে দুর্গন্ধ ছড়ায়নি। প্রতিবেশীদের দাবি, প্রদীপ এবং ছবির বড় কোনও গন্ডগোল ছিল না। তবে দিন কয়েক আগে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। সাধারণ দাম্পত্যকলহ ভেবেছিলেন সকলে। ছবির এক সহকর্মী জানান, কিছু দিন ধরে আর্থিক সংক্রান্ত বিষয়ে চাপে ছিলেন প্রৌঢ়া। তিনি বলেন, ‘‘ছবি খুবই ভাল মহিলা। কয়েক মাস ধরে স্বামীর সঙ্গে ওর টাকাপয়সা নিয়ে কিছু গোলমাল ছিল। আমার মনে হয়, সেখান থেকেই গন্ডগোল হয়। ছবিকে ওর স্বামী মেরে ফেলেছে।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, ছবির স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রৌঢ়ার রহস্যমৃত্যুর তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এক পদস্থ কর্তা।

Advertisement
আরও পড়ুন