কাটোয়া স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। — নিজস্ব চিত্র।
নতুন বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ পেল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া। শনিবার রাত প্রায় ১টা ৫০ নাগাদ কাটোয়া স্টেশনে প্রথম বারের মতো থামে এই অত্যাধুনিক ট্রেন। স্টেশনে ট্রেন পৌঁছোনোর আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-র কর্মী ও সমর্থকেরা। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢোকার পরেই চালককে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে ও মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
স্টেশনে ট্রেন আসার পরে চালককে উপহার হিসাবে দেওয়া হয় পান্তুয়া। তার পরে কয়েক জন প্রতীকী ভাবে ওই ট্রেনে সফর করেন পরবর্তী স্টেশন নবদ্বীপে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘‘বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ওঠার সুযোগ কাটোয়া স্টেশন থেকে পাব এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। সত্যিই গর্বের বিষয়।’’
জানা গিয়েছে, ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলা ও অসমের দু’টি জেলাকে যুক্ত করে চলাচল করবে। এই ট্রেনের মাধ্যমে দুই রাজ্যের মোট ন’টি জেলার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। অন্য ট্রেনের তুলনায় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন যাত্রার সময় প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত কমিয়ে দেবে। অনেকের দাবি, এই ট্রেনে বিমানের মতো বিলাসবহুল ও আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা মিলবে। তবে বিমানের তুলনায় অনেক কম খরচে। রেলযাত্রীদের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই এই ট্রেন চালু করা হয়েছে বলে মনে করছেন রেল আধিকারিকরা।
নয়া বন্দে ভারত ট্রেনে মোট ১৬টি কোচ রয়েছে। যার মধ্যে ১১টি থ্রি-টিয়ার এসি, ৪টি টু-টিয়ার এসি এবং ১টি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচ। সর্বোচ্চ ৮২৩ জন যাত্রী এই ট্রেনে সফর করতে পারবেন।
অন্য দিকে, আরও দু’টি অমৃত ভারত ট্রেনের স্টপেজ পেল বর্ধমান জংশন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি চারটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা করেন। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বন্দে ভারতের আদলে তৈরি নতুন দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতেও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বালুরঘাট-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু অমৃত ভারত এক্সপ্রেস বালুরঘাট রেল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে রাত ন’টা নাগাদ বর্ধমান রেল স্টেশনে পৌঁছোয়। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সময়ে বিজেপি সমর্থকেরা চালক ও রেলকর্মীদের স্বাগত জানান ঢাক বাজিয়ে। স্টেশন চত্বরে বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার আগে থেকেই বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা-সহ বিজেপির কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। নিউ জলপাইগুড়ি-তিরুচিরাপল্লি জংশন অমৃত ভারত ট্রেনও শনিবার রাতে বর্ধমান স্টেশনে স্টপেজ নেয়।
সাঁতরাগাছি -তাম্বারাম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস রবিবার সন্ধ্যা ৫:৪০ নাগাদ বর্ধমানে এসে পৌঁছোয়। সিঙ্গুর থেকে প্রধানমন্ত্রী এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন রেলের আধিকারিকেরাও। বর্ধমান জংশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও। ঢাক ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এই ট্রেনকে স্বাগত জানানো হয়। এই ট্রেন বর্ধমান স্টেশনে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে। নতুন ট্রেন ও উদ্বোধনী অনুষ্টান দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসাহী সাধারণ মানুষও।
অমৃত ভারত এক্সপ্রেস একটি আধুনিক নন এসি স্লিপার ট্রেন। দূর সফরের জন্য এই পরিষেবা। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ট্রেনের লক্ষ্য সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক যাত্রা সুনিশ্চিত করা। এ ছাড়াও উৎসবের মরশুম বা পর্যটকেদের বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দেওয়াও এই পরিষেবার উদ্দেশ্য। প্রতি হাজার কিলোমিটারে আনুমানিক ৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে এই ট্রেন সফরের জন্য। রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ জুড়ে সাশ্রয়ী দীর্ঘপথ রেলসংযোগ বিস্তারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই ধরনের ট্রেনগুলি সম্পূর্ণ নন এসি। এতে রয়েছে ১১টি সাধারণ শ্রেণির ও আটটি স্লিপার কোচ,, একটি প্যান্ট্রি কার ও দু’টি দ্বিতীয় শ্রেণির লাগেজ, গার্ড ভ্যান। বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে।