Rift in BJP

বিজেপির কোন্দল মেটাতে সমন্বয় বৈঠক আরএসএসের

রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পরে দু’মাসও কাটেনি। দলীয় সূত্রের খবর, এর মধ্যেই অস্বস্তিকর নানা খবর এসেছে দলের কাছে।

সৌমেন দত্ত
শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলেন, রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার জমি তৈরি করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। বিজেপি নেতৃত্ব তা স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। বিজেপি সূত্রের খবর, দলের অন্দরে নানা সমস্যা মেটাতে এ বার উদ্যোগী হয়েছেন সঙ্ঘ নেতৃত্ব। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রেক্ষাগৃহে রবিবার বিজেপি-সহ অন্যান্য সংগঠনকে ‘এক সূত্রে এবং শৃঙ্খলায় বাঁধতে’ সমন্বয় বৈঠক করেছে সঙ্ঘ। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই বৈঠক হবে। শুধু জেলা স্তরে নয়, বৈঠক হবে সঙ্ঘের নিচুতলায়ও। বিজেপির এক নেতা বলেন, “সংগঠনের রাশ হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে সমন্বয় বৈঠক করল সঙ্ঘ।’’

রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পরে দু’মাসও কাটেনি। দলীয় সূত্রের খবর, এর মধ্যেই অস্বস্তিকর নানা খবর এসেছে দলের কাছে। যেমন, দলীয় নেতৃত্বের কথা শুনছে না সঙ্ঘের অন্য সংগঠনগুলি। বিধায়কের সঙ্গে দলের মণ্ডল সভাপতি কিংবা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের কথা কার্যত ‘বন্ধ’। অনেক জায়গায় বিধায়কদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না দলের শক্তিকেন্দ্র প্রমুখেরা। এমনকি, কিছু এলাকায় জেলা সভাপতির বিরুদ্ধেও বিধায়কদের ক্ষোভের কথাও শোনা গিয়েছে। অভিযোগ এসেছে, বিজেপি নেতৃত্বের কথা শুনছে না সঙ্ঘের অন্য সংগঠনগুলি। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ বলছেন, ‘‘ক্ষমতায় আসার দু’মাসের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তাল হয়েছে দলের অন্দরমহল। সেই কারণেই এ দিন বৈঠক হয়েছে।’’ জেলার ১৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১৩ জন, দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সঙ্ঘের অন্য সংগঠনের নেতারা বৈঠকে ছিলেন। ছিলেন সঙ্ঘের প্রান্ত, ক্ষেত্র ও জেলার কর্তারা।

সঙ্ঘের এক প্রচারকের কথায়, “বিজেপি সবে ক্ষমতায় এসেছে। কোথাও বিধায়কেরা দলের কাজে, কোথাও মণ্ডল সভাপতি-শক্তিকেন্দ্র প্রমুখেরা প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন। সকলের কাজ নির্দিষ্ট করা রয়েছে। তার বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পরস্পরের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্য সংগঠনগুলির ভূমিকা কী হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।” সূত্রের খবর, বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, কেউ নিজের ক্ষেত্র ছেড়ে অন্য কোনও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা গলাবেন না। প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়ে দলের কাজকর্মে, দলের কাজ ছেড়ে প্রশাসনের কাজে ‘দাদাগিরি’ করবেন না।

সূত্রের খবর, বিজেপির প্রবীণ এক নেতা কী ভাবে কাজে সমস্যা তৈরি করছেন, বৈঠকে তার ব্যাখা দেন কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার অন্তর্ভুক্ত এক বিধানসভার দলীয় বিধায়ক। ভোটের আগে দলের এক শ্রেণির নেতা তাঁর জয়ের পথে কী ভাবে কাঁটা বিছিয়েছিলেন, বৈঠকে তা সঙ্ঘকে জানান আর এক বিধায়ক। সূত্রের খবর, সংগঠন বিস্তারেরকাজে বিজেপির কিছু নেতা সমস্যা তৈরি করছেন বলে বৈঠকে দাবিকরেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। অভিযোগ উঠেছে, সমাজমাধ্যমে সঙ্ঘেরই শাখা সংগঠনকে কটাক্ষ করছেন কেউ কেউ।

বিজেপির একাধিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পরে দলে আসা নেতাদের দাপটে বিজেপির আদিরা ‘কোণঠাসা’ হয়ে পড়েছেন। বিরোধীদের গ্রামছাড়া করা, জরিমানা আদায়ের মতো অভিযোগ উঠছে। আবার, দলের অনেকের সঙ্গে বালি-কারবারিদের যোগাযোগ ও নানা অবৈধ কাজে যুক্ত থাকার নালিশও এসেছে। এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘‘কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্তরে নতুন কমিটি গঠনেরও ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। নিচু স্তর পর্যন্ত সংগঠন তৈরি হয়ে গেলে আর অভিযোগ উঠবে না।”

আরও পড়ুন