গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্য সরকারের ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের আওতায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল শিক্ষায় উৎসাহ দিতে স্মার্টফোন বা ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) পদ্ধতিতে এই অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। জানুয়ারি ২০২৬ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছাতে শুরু করলেও পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের ভাতকুণ্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ জন ছাত্রছাত্রী এখনও সেই অর্থ পায়নি বলে অভিযোগ। ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবদাস নাগ জানান, গত ৮ জানুয়ারির পর থেকে বিভিন্ন স্কুলে ট্যাব কেনার অর্থ পাঠানো শুরু হয়। কিন্তু তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অবসর নেন। আমি প্রায় এক মাস আগে দায়িত্বে এসেছি। সরকারি পোর্টালে যে মোবাইল নম্বরটি রেজিস্টার্ড রয়েছে, সেটি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের। ফলে ওটিপি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করা যায়নি। সেই কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।”
দেবদাস আরও জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের কাজও চলছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, খুব শীঘ্রই বাকি পড়ুয়ারাও প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পাবে।
অভিভাবকদের একাংশের দাবি, ডিজিটাল শিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা যাতে আর বিলম্ব না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। বিদ্যালয় ও শিক্ষা দফতরের সক্রিয় উদ্যোগে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলেই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
অন্য দিকে আউশগ্রাম-২ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সেখ আব্দুল লালন বলেন, “এটা আমাদের গাফিলতি। আসলে হঠাৎ করে স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি পরিবর্তন করা হয় আমাদের অন্ধকারে রেখে। যাদের কমিটির মাথায় বসানো হয়েছে তাঁরা স্কুলে যান না। আমি ইতিমধ্যেই জেলা সভাপতিকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি। আমাদের সরকার জনমুখী কর্মসূচি নিয়েছে। আমাদের কাজ সবার কাছে সেগুলি পৌঁছে দেওয়া।” তবে এই ঘটনায় বিজেপি নেতা মৃত্যঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “আসলে শিক্ষাকেন্দ্রগুলি শাসকের অঙুলীহেলনে চলে। তাই যা হবার তাই হয়েছে।”