ঘরে ঢুকে থ হয়ে যান বাড়ির সদস্যেরা। আলমারি থেকে উধাও টাকাপয়সা-গয়না, বিছানা থেকে উধাও কম্বল! ধৃত তৃণমূল নেতা হাই মল্লিক (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।
গৃহস্থের বাড়িতে চুরির ঘটনায় পুলিশের জালে শাসকদলের নেতা! সোমবার এ নিয়ে শোরগোল পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়। অস্বস্তিতে তৃণমূল। খোঁচা বিরোধীদের।
ধৃত তৃণমূল নেতার নাম হাই মল্লিক। গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে এলাকার এক গৃহস্থের বাড়িতে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন আহাদ শেখ নামে আর এক জন। ধৃত দু’জনেই গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার ওই এলাকারই বাসিন্দা জনৈক রানা বিশ্বাসের বাড়িতে চুরি করেছিলেন তাঁরা। স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থের পাশাপাশি পোস্ট অফিসের কর্মীর বাড়ি থেকে কম্বল পর্যন্ত চুরির অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, রানা এবং তাঁর স্ত্রী দিনকয়েক আগে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। রানার মা-ও তাঁর বাপের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফাঁকা বাড়িতে ঢোকে চোরের দল। বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দু’টি ঘরের দু’টি আলমারি ভেঙে অলঙ্কার-সহ হাজার চল্লিশ টাকা চুরি করে তারা। পরিবারের দাবি, চোরেরা ঘরের কম্বল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে। রবিবার এই চুরির ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে পাকড়াও করে। তার পরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। কারণ, চোর তাঁদের সকলের চেনা— হাই সাহেব।
স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, তৃণমূল নেতা হাই মল্লিকের একটি আসবাবপত্রের দোকান রয়েছে আলুটিয়ায়। সপ্তাহ তিনেক আগে তাঁর ওই দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। কাঠের আসবাবের ব্যবসায়ী তথা তৃণমূল নেতা অভিযোগ করেন, দোকান থেকে কাঠের কাজের যন্ত্রপাতি চুরি গিয়েছে। পুলিশ অবশ্য সেগুলো উদ্ধার করে দেয়। দোকানের কাছে একটি জঙ্গল থেকে চুরি যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার করে তারা। এই দুই চুরির ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্য দিকে, দলের নেতা চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পর গুসকরা টাউন তৃণমূল সভাপতি মল্লিকা চোঙদার জানিয়ে দেন, হাই দলের কোনও পদে ছিলেন না। তাঁর দাবি, ‘‘এখনও আমাদের নতুন করে ওয়ার্ড কমিটি তৈরি হয়নি। সুতরাং হাই মল্লিক এখন দলের কোনও পদে নেই।’’ তবে গুসকরা পুরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাই মল্লিক নেশা করত বলে শুনেছি। কিন্তু ও যে এ সবের মধ্যেও আছে জানা ছিল না। যাই হোক, আইন আইনের পথে চলবে।’’
এমন ঘটনা নিয়ে কটাক্ষের সুযোগ হাতছাড়া করছে না বিরোধীরা। বিজেপি নেতা মৃত্যঞ্জয় চন্দ্রের খোঁচা, ‘‘দিনে দিনে তৃণমূলের নেতাদের চরিত্র সামনে আসছে। চোর-ডাকাতরাই তো এখন শাসকদলের সম্পদ। কী আর করা যাবে।’’