Post Election Violence

তোলাবাজি-হুমকি থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার একাধিক দলীয় নেতা, এসপির সঙ্গে বৈঠক তৃণমূলের

সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল ও সামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি গিয়ে কথা বলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৫:০২

—প্রতীকী চিত্র।

একের পর এক তৃণমূল নেতার গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি ও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাক্তন শাসকদলের একাধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার জেলায় এসেছিল তৃণমূলের তথ্য অনুসন্ধানকারী দল। জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকও করেছে জোড়াফুল শিবিরের প্রতিনিধি দল।

Advertisement

তোলাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বর্ধমান-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পরমেশ্বর কোনার ও কুড়মুন-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বাসুদেব দে। শক্তিগড় থানার পুলিশ সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে তোলাবাজি, ভয় দেখানো ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।

রিভলভার দেখিয়ে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে রায়নার দুই তৃণমূল নেতা সেখ ইসমাইল ওরফে শান্ত ও খন্দকার সফিকুল আলম ওরফে আনন্দকে গ্রেফতার করেছে রায়না থানার পুলিশ। অভিযোগ, কয়েক মাস আগে হিজলনা এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। তদন্তে অভিযুক্তদের নাম উঠে আসার পরেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ইসমাইল ও সফিকুলকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় তৃণমূল নেতা কালন মল্লিককে গ্রেফতার করে জামালপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে এলাকায় হিংসা ও অশান্তির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে পুরনো ভোট পরবর্তী হিংসার মামলাগুলিতে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রেই শুরু হয়েছে পুলিশের অভিযান।

ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পূর্ব বর্ধমানে পৌঁছোয় তৃণমূলের তথ্য অনুসন্ধানকারী দল। সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল ও সামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি গিয়ে কথা বলেন। পরে পুলিশ সুপারের সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোটের পর বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, হিংসা রোধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

Advertisement
আরও পড়ুন