—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ঘুমন্ত পুত্রবধূর উপর অ্যাসিড হামলার অভিযোগ শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকা। অভিযুক্ত সুকি মাড্ডিকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পুত্রের পরকীয়ায় কারণে সাংসারিক অশান্তি হত।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ১১ বছর আগে ভাতারের মাহাতা গ্রামের বাসিন্দা গাড়িচালক সোমাই সোরেনের সঙ্গে সুকদি সোরেনের বিয়ে হয়। দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। বছর তিনেক হল সোমাই পরকীয়ায় জড়ান। সেই নিয়ে সাংসারিক অশান্তি হত। একটা সময় প্রেমিকাকে বাড়িতে রাখার জন্য উঠেপড়ে লাগেন সোমাই। অশান্তি চরম আকার নিলে পরে বাড়ির পাশে একটি ঘর তৈরি করে সেখানে প্রেমিকার থাকার বন্দোবস্ত করেন।
সুকদির বাপের বাড়ি ভাতারের আলিনগরে।
যুবতীর মা বুধিন হাঁসদার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়েছিলেন সুকদি। শাশুড়ি ঘুমোতেন বাইরের বারান্দায়। শনিবার ভোরে তাঁর মেয়ের চিৎকার-চেঁচামেচিতে বাড়ির লোকজন এবং প্রতিবেশীরা ছুটে যান। ঘরে ঢুকে দেখেন, দু’হাত মুখে চেপে ছটফট করছেন সুকদি। তাঁর মুখ ঝলসে গিয়েছে। বুধিন বলেন, ‘‘ঘুমন্ত অবস্থায় মেয়ের উপর অ্যাসিড ছুড়েছে ওর শাশুড়ি।’’
অন্য দিকে, সুকদির ননদ তুলসী কিস্কুও জানান, ওই ঘরের কাছে তাঁর মা সুকি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তাঁর সন্দেহ, পারিবারিক অশান্তির মা-ই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
জখম বধূকে প্রথমে ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসক। এখন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা চলছে সুকদির। তাঁর শারীরিক অবস্থা শঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
অন্য দিকে, পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে তদন্ত করছে। শাশুড়িকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।