Kaizer Ahamed

খুন হয়ে যেতে পারি! অস্ত্র নিয়ে অচেনা লোক ঘোরাঘুরি করছে! আশঙ্কা ভাঙড়ের কাইজ়ারের, চাইলেন পুলিশি নিরাপত্তা

তৃণমূলের অন্দরে সওকত মোল্লা এবং কাইজ়ারের বিবাদ সর্বজনবিদিত। তৃণমূলে দীর্ঘ দিন ধরেই কোণঠাসা কাইজ়ার। এ বারের নির্বাচনেও সওকতের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছিলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ০৯:৫৫
(বাঁ দিকে) সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং কাইজ়ার আহমেদ (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং কাইজ়ার আহমেদ (ডান দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।

খুন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা কাইজ়ার আহমেদ। দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বুধবার তাঁর বাড়ির সামনে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন বলে দাবি কাইজ়ারের। দু’জনের কাছেই অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেতার বক্তব্য, তাঁর বাড়ির আশপাশে ‘রেকি’ করার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। কাইজ়ারের দাবি, সুযোগ বুঝে গুলি চালানোর উদ্দেশ্যেও বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করে থাকতে পারেন ওই ব্যক্তিরা। এই নিয়ে ইতিমধ্যে ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন কাইজ়ার। পুলিশের কাছে নিরাপত্তাও চেয়েছেন তিনি।

Advertisement

তৃণমূলের অন্দরে সওকত মোল্লা এবং কাইজ়ারের বিবাদ সর্বজনবিদিত। তৃণমূলে দীর্ঘ দিন ধরেই কোণঠাসা কাইজ়ার। এ বারের নির্বাচনেও সওকতের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর আইএসএফ এর বিজয়মিছিলেও যোগ দিয়েছিলেন। কাইজ়ারের দাবি, তিনি এখন আর তৃণমূলে নেই। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে দলত্যাগ করেননি এখনও। সে ক্ষেত্রে আইএসএফ-এর হয়ে নির্বাচনে কাজ করার ফলেই তাঁর উপর হামলার ছক কষা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। কাইজ়ারের বক্তব্য, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তাঁর বাড়ির সামনে দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ঘোরাঘুরি করছিলেন। তিনি ওই সময়েই সাধারণত বাড়ি থেকে বেরোন। তবে বুধবার বেরিয়েছিলেন সকাল সাড়ে ৮টায়। ফলে ঘটনার সময়ে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে বাড়ি ফিরে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে থানায় অভিযোগ জানান।

কাইজ়ারের কথায়, ভোটের পর তৃণমূলের এক শ্রেণির দুষ্কৃতী আইএসএফ পরিচয়ে ভাঙড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি সরব হয়েছেন। ২০২৩ সালের পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলেও জানান ভাঙড়ের এই নেতা। তিনি আরও বলেন,“এ বার সওকতকে হারাতে নওশাদের জন্য খেটেছি। আমার বিরুদ্ধে হামলার মোটিভ হিসাবে এগুলোও থাকতে পারে।”

উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও কাইজ়ার থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তখনও প্রাণনাশের আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। ওই সময়ে সরাসরি সওকতের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন কাইজ়ার। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁকে খুন করার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছেন সওকত। এ বার নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ফের প্রাণনাশের আশঙ্কায় পুলিশের দ্বারস্থ হলেন কাইজ়ার।

ভাঙড় থানায় তিনি বুধবারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভিডিয়ো ফুটেজে ওই অচেনা দুই ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা স্পষ্ট ধরা পড়েছে। পুলিশকে তিনি আরও জানিয়েছেন, অতীতেও তিনি একাধিক বার খুনের হুমকি পেয়েছেন। তাঁর বাড়িতেও অতীতে হামলা হয়েছে। এ অবস্থায় অতীতের ঘটনাগুলির সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার আর্জি জানিয়েছেন কাইজ়ার। একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে পুলিশের টহলদারি এবং নজরদারির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কাইজ়ারের আর্জি, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুক পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন