Strict Guidelines for Government Employees

সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য বা তথ্য ফাঁস নয়, নির্দেশ নবান্নের

মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের জারি করা নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ০০:৪৭
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্ব নিয়েই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সেই পর্যায়ে এ বার তাঁর হাতে থাকা প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের তরফে এক কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের জন্য নতুন করে কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, সরকারি নথি বা তথ্য প্রকাশ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ— সব ক্ষেত্রেই এ বার কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

Advertisement

মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের জারি করা নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সার্কুলার অধীনস্থ সমস্ত অফিসে দ্রুত প্রচার করতে হবে এবং কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ এবং প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা জারি করার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এ ভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারি আধিকারিক তথা কর্মচারীদের যোগাযোগের উপর কড়া নজরদারির বন্দোবস্ত করল রাজ্য সরকার।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আইএএস, ডবলিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস (ডাবলুবিপিএস)-এর আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি ভাবে তৈরি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কোনও সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র তুলে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মচারী সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখা লিখতে পারবেন না, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা বা পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না। রেডিয়ো বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমেও বক্তব্য পেশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কোনও বক্তব্য বা প্রকাশনা যদি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তা শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জনসমক্ষে মত প্রকাশের ক্ষেত্র আরও সীমাবদ্ধ করা হল। যদিও সরকারের একাংশের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি কঠোর ভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনও কর্মচারী এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন