গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল বিজেপি। সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিল তৃণমূল। এ বার নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চায় পদ্মশিবিরও। আগামী ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) ওই কর্মসূচি করতে চায় তারা। জানা যাচ্ছে, ওই দিন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চাইছেন বিজেপি বিধায়কেরা।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে আইনজীবী মারফত হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিজেপি নেতা তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক, বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ। মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য, পুলিশ তাদের এখনও অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
বিজেপির বক্তব্য, তাদের নবান্নের সামনে ধর্নাটি একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। পুলিশের কাছ থেকে তারা অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু মেলেনি। তাই আদালত যাতে ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়, সেই আবেদন জানিয়েছে মামলাকারী পক্ষ। মঙ্গলবার হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ তাদের মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। আগামী বুধবার মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঠিক এমন একটি সময়ে বিজেপি নবান্ন অভিযান করতে চাইছে, যখন তার পরের দিনই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ অবস্থায় বিজেপির এই ধর্না কর্মসূচি নিয়ে মামলার গতিপ্রকৃতি কেমন থাকে, সে দিকে নজর থাকবে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি। তার প্রতিবাদে গত শুক্রবার ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ তৃণমূলের আট জন সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের দফতরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। ঘণ্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পরে পুলিশ তাঁদের জোর করে তোলার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে গিয়েছিল। উত্তেজনা ছড়িয়েছিল শাহের দফতরের সামনে।
এর আগে গত বছরের অগস্টে নবান্ন অভিযান হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন আরজি করে নির্যাতিতার বাবা-মা। তবে বাস্তবে তা এক প্রকার বিজেপির নবান্ন অভিযানই হয়ে উঠেছিল। সেই বারও বিক্ষিপ্ত কিছু উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। যদিও পুলিশি ব্যারিকডের কারণে নবান্নের ধারেকাছেও পৌঁছোতে পারেননি কর্মসূচিতে যোগদানকারীরা। ওই কর্মসূচি চলাকালীন জখম হন নির্যাতিতার মা-ও।
২০২৪ সালে আরজি কর-কাণ্ডের আবহে গত বছরের অগস্টে নবান্ন অভিযান চালিয়েছিল ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’। সেই অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল অভিযানকারীদের। হাওড়া এবং কলকাতায় তুলকালাম হয়। গ্রেফতার করা হয় ওই ছাত্র সমাজের সদস্য সায়ন লাহিড়ী। অভিযোগ ওঠে, ওই কর্মসূচিতেও সমর্থন ছিল বিজেপির। অতীতে বিভিন্ন সময়ে নবান্ন অভিযান ঘিরে বিক্ষিপ্ত গোলমাল, উত্তেজনার অভিযোগ উঠে এসেছে।
তবে গত বছরের অগস্টে নবান্ন অভিযানের অনুমতি দেওয়ার সময়ে হাই কোর্ট এ-ও বলেছিল, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সকলের মৌলিক অধিকার। ওই সময়ে বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বলেছিল, ‘‘এমন ধরনের প্রতিবাদের উপর কোনও সাধারণ নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখানে নেই।’’