BJP Attackes CEC

ফর্ম-৭ জমা নিচ্ছেন না ইআরও! কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি, এসআইআর ‘স্বচ্ছ’ ভাবে না-হলে ভোট না-হতে দেওয়ার হুঁশিয়ারি

মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা শুরু হয়েছিল যে, ইআরও বা এইআরও স্তরের আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকায় ফর্ম-৭ জমা নিতে অস্বীকার করছেন। প্রথমে মূলত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অভিযোগ উঠছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২১
Bengal BJP attacks CEC on Form 7 issue, Threatens to stall polls in the state if SIR is not fair enough

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘অর্থহীন’ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হল রাজ্য বিজেপি। এ ভাবে এসআইআর হলে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হতে দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য! বিএলও-সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা বিজেপির বিএলএ-দের কাছ থেকে ফর্ম-৭ জমা নিতে অস্বীকার করছেন বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে বিজেপি। শমীক দাবি করেছেন, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পশ্চিমবঙ্গে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে এবং এসআইআর পর্ব স্বচ্ছ ভাবে শেষ করা নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা শুরু হয়েছিল যে, ইআরও বা এইআরও স্তরের আধিকারিকেরা বিভিন্ন এলাকায় ফর্ম-৭ জমা নিতে অস্বীকার করছেন। প্রথমে মূলত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অভিযোগ উঠছিল। নৈহাটি, জগদ্দল এবং ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় থেকে যাওয়া ‘ভুয়ো’ বা ‘সন্দেহজনক’ নামের বিষয়ে ফর্ম-৭ পূরণ করে আপত্তি নথিভুক্ত করতে গিয়েছিলেন বিজেপির জেলা নেতারা। কিন্তু ওই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের কোনওটিতেই বিজেপির কাছ থেকে ফর্ম-৭ জমা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কোথাও বিজেপির প্রতিনিধিদল পৌঁছোনর আগেই ইআরও অফিস থেকে বেরিয়ে যান। কোথাও ইআরও জানিয়ে দেন, তিনি ফর্ম-৭ জমা নেওয়ার কোনও নির্দেশ পাননি। জগদ্দল বিধানসভার এক আধিকারিকের সঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস ঘোষের এবং ভাটপাড়ার বিজেপি বিধায়ক পবন সিংহের বাদানুবাদও শুরু হয়। তাঁদের দাবি, আইন অনুযায়ী ওই ফর্ম বিএলও-দেরই জমা নেওয়ার কথা। তাঁরা জমা নিতে অস্বীকার করায় বিজেপির প্রতিনিধিদলকে ইআরও বা এইআরও-র দফতরে হাজির হতে হয়েছে। কিন্তু সেখানেও ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছে না।

পরে বিজেপি অভিযোগ করে, শুধু ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল নয়, হুগলির চুঁচুড়া বা আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম থেকেও একই অভিযোগ আসছে। কোথাও ফর্ম-৭ জমা নেওয়া হচ্ছে না। নতুন নাম তালিকায় সংযোজনের জন্য যে ফর্ম-৬ পূরণ করতে হয়, তাও বিজেপির বিএলএ-দের জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। ফর্ম-৬ অনলাইনে জমা দিতে বলা হচ্ছে বলে বিজেপির দাবি।

মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শমীক। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে একটি বিশুদ্ধ, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা উপহার দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজনের প্রক্রিয়া ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলছে। ভুয়ো বা সন্দেহজনক নাম তালিকা থেকে বিয়োজনের জন্য যখন আমাদের বিএলএ-রা ফর্ম-৭ জমা দিতে যাচ্ছেন, তখন প্রথমে বিএলও-রা তা জমা নিতে অস্বীকার করছেন। বলছেন, উপর থেকে নির্দেশ আসেনি। উপরের স্তরে অর্থাৎ ইআরও-র কাছে যখন আমরা জমা দিতে যাচ্ছি, তখন তিনিও বলছেন, জমা নিতে পারবেন না। কারণ উপরতলার নির্দেশ পাননি।’’ শমীক প্রশ্ন তোলেন, ‘‘এই উপরতলাটা কে?’’

শমীকের অভিযোগ, রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই এই পরিস্থিতি। খসড়া তালিকায় সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজনের পর্বে ফর্ম-৭ জমা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও বিএলও-রা ফর্ম জমা নিচ্ছেন না। তাঁদের উপরতলার আধিকারিকরাও জমা নিচ্ছেন না। রাজ্য বিজেপি সভাপতির প্রশ্ন, ‘‘এসআইআর প্রক্রিয়া এ ভাবে চলার অর্থ কী?’’ তাঁর কথায়, ‘‘বিএলও-রা চাপের কাছে নতিস্বীকার করছেন না কি অন্য কোনও কারণে ফর্ম জমা নিতে পারছেন না, তা আমরা জানি না। কিন্তু এগুলো দেখার দায়িত্ব তো নির্বাচন কমিশনের! তারা কী করছে?’’ এর পরেই শমীক হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘‘এ ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া যদি পশ্চিমবঙ্গে শেষ হয়ে যায়, তা হলে আমরা এখানে নির্বাচন হতে দেব না।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শাসকদল তৃণমূল শুরু থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়া ‘ভেস্তে দেওয়ার’ চেষ্টা করছেন বলে শমীক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বলছি, দিল্লিতে বসে থেকে হবে না। আপনি পশ্চিমবঙ্গে আসুন। এখানে থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ভাবে শেষ হওয়া নিশ্চিত করুন।’’

Advertisement
আরও পড়ুন