অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গভীর রাতে কেন পুলিশ হানা দিল, তা নিয়ে এ বার প্রশ্ন হাই কোর্টের। আগামী চার সপ্তাহে এ বিষয়ে হলফনামা জমা দিয়ে পুলিশকে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। তার দু’সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মামলাকারী পক্ষকেও। অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশির সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ড সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে গত ১৩ জুন ভোরে সাংসদের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দেয় শালবনি থানার পুলিশ। এ অবস্থায় পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা করে তৃণমূল। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। তাতে ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের পাশাপাশি দু’পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি।
সাংসদের হয়ে হাই কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তাঁর বক্তব্য, একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ অভিষেকের বাড়িতে যায়। কিন্তু ওই অভিযোগপত্রে তাঁর মক্কেলের নাম নেই। সুমিত রায়ের নাম রয়েছে। সুমিত তাঁর মক্কলের বাড়িতে আছেন, শুধু এই সন্দেহ থেকেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। তাঁর আরও সওয়াল, ভোর ৩টের সময়ে পুলিশ বাড়িতে পৌঁছোয়। তার পরে ভোর ৫টায় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে ডাকে দরজা খোলার জন্য।
তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আপনি কি তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তের বিরুদ্ধে? তাতে অভিষেকের আইনজীবী জানান, তিনি পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তার’ বিরুদ্ধে। তাঁর সওয়াল, কোনও তল্লাশি পরোয়ানা ছাড়াই অভিযান চালায় পুলিশ। বাহিনী নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
মামলার শুনানির সময়ে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারও। তাঁর উদ্দেশে বিচারপতি ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, ১৩ জুন অত রাতে কেন তল্লাশি হল? তাতে রাজদীপ জানান, সুমিত পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যদিও তাতে আপত্তি জানান অভিষেকের আইনজীবী। কিশোরের পাল্টা সওয়াল, সুমিতের হয়ে লড়তে আসেননি তিনি। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বিচারপতি জানান, এই মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার কোনও পরিস্থিতি নেই। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। জানান, পুলিশের হলফনামা জমার দু’সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে হবে মামলাকারী পক্ষকে। তল্লাশির সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে অডিয়ো এবং ভিডিয়ো রেকর্ডও সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে।