West Bengal Assembly

বিরোধী দলনেতা পদে আপাতত বহাল রইলেন ঋতব্রতই! কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করল না হাই কোর্ট, চাওয়া হল হলফনামা

বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ সংক্রান্ত মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকছেন বিরোধী দলনেতার পদে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১০:৪৮
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ সংক্রান্ত মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকছেন বিরোধী দলনেতার পদে। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তই আপাতত বহাল থাকছে। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর বৃহস্পতিবার কোনও হস্তক্ষেপ করল না আদালত। হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

Advertisement

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক। দলীয় নেতৃত্বের তরফে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হন ঋতব্রত। তার আগেই ‘দলবিরোধী কাজের’ অভিযোগে ১ জুন তৃণমূল নেতৃত্ব ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ বারের বিধানসভা ভোটে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল। সেই হিসাবে তারাই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত করেছিলেন শোভনদেবকে। সে কথা স্পিকারকে জানিয়ে গত ৯ মে একটি চিঠি দেওয়া হয় তৃণমূলের তরফে। অভিযোগ, তার ভিত্তিতে স্পিকার কোনও পদক্ষেপই করেননি।

এমতাবস্থায় ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। বুধবার ওই মামলার শুনানিতে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি রাও। তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করার পরেও কী ভাবে বিধায়ক ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে বেছে নিলেন স্পিকার, সেই প্রশ্ন তোলে আদালত। কেন তৃণমূলের তরফ থেকে আসা প্রথম চিঠিকে গুরুত্ব দেওয়া হল না এবং কেন দ্বিতীয় চিঠিটি গ্রহণ করে নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।

স্পিকারের আইনজীবীর সওয়াল ছিল, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তার নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। তা হয় নিয়ম মেনে। স্পিকারের কাছে প্রথম চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে কয়েক জনের সই ছিল। তবে দ্বিতীয় চিঠিটি দেওয়ার সময় ৫৮ জন বিধায়ক সশরীরে স্পিকারের সামনে হাজির হন এবং ঋতব্রতের প্রতি সমর্থনের কথা জানান। নিজেদের তাঁরা আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন। তাই এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মেনে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঋতব্রতের পক্ষে সওয়াল আদালতে করেছেন আইনজীবী জয়দীপ কর। তাঁর বক্তব্য, ৬ মে-র প্রস্তাবপত্রে কোনও স্বাক্ষর ছিল না। তাই স্পিকার আরও নথি চেয়েছিলেন। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ঋতব্রতের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তাই দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী এই বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

অন্য দিকে, স্পিকার এবং ঋতব্রতের যুক্তির বিরোধিতা করেন শোভনদেবের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা রাজনৈতিক দল ঠিক করে। বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেখানে বিবেচ্য হতে পারে না। রাজনৈতিক দল এবং পরিষদীয় দল পৃথক। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়েও রাজনৈতিক দলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মমতা-সহ দলীয় নেতৃত্ব শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করেছিলেন। স্পিকার কাজ ছিল সেই সিদ্ধান্তকেই কার্যকর করা। কিছু বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে দলের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন না বলে দাবি করেছেন কল্যাণ। তাঁর যুক্তি ছিল, বহিষ্কৃত কাউকে বিরোধী দলনেতা করা আইনসঙ্গত নয়।

বিরোধী দলনেতার পদ সংক্রান্ত মামলার অন্তর্বর্তী নির্দেশের আর্জি জানানো হয়েছিল আদালতে। এ অবস্থায় সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বুধবার রায়দান স্থগিত রাখে আদালত। এ বার হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, ওই মামলায় এখনই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না।

আদালত এ কথা জানানোর পরে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, “এটা আমাদের নৈতিক জয়। আমরা যা করেছি আইন মেনেই করেছি।”

Advertisement
আরও পড়ুন