Messi incident in Kolkata

মেসি-কাণ্ডে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস, তিন বার হাজিরা এড়িয়ে অবশেষে গেলেন পুলিশ-দুয়ারে

মেসি-কাণ্ডে অবশেষে থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় যান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১০:০৮
(বাঁ দিকে) মেসির সঙ্গে অরূপ বিশ্বাস।

(বাঁ দিকে) মেসির সঙ্গে অরূপ বিশ্বাস। —ফাইল চিত্র।

মেসি-কাণ্ডে অবশেষে থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় যান। এর আগে তিন বার তাঁকে তলব করেছিল পুলিশ। প্রতি বারই তিনি হাজিরা এড়িয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, থানায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিক। গোটা জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের ভিডিয়োগ্রাফি করা হচ্ছে।

Advertisement

মেসি-কাণ্ডে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের রক্ষাকবচ পেয়েছেন টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ। আদালত জানিয়েছে, ২ জুলাই পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে কিছু শর্তও মানতে হবে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আইন মেনে তদন্ত হবে। পুলিশ কোনও নোটিস দিলে অরূপকে যেতে হবে। তবে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সেই নোটিস দিতে হবে পুলিশকে। এ ছাড়া, নিম্ন আদালতে সাত দিনের মধ্যে অরূপকে নিজের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি কোথাও যেতে পারবেন না।

অরূপকে রক্ষাকবচ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন মেসি-অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। বিষয়টি নিয়ে বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শতদ্রুর আইনজীবী অরিন্দম জানা। আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসি। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ। তাঁর ঘনিষ্ঠেরাও ছিলেন মেসিকে ঘিরে। পরিস্থিতির জেরে কয়েক মিনিটের মধ্যে মেসি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার জেরে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অরূপ। এই সংক্রান্ত শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু হন? কেন তিনি মেসির অত কাছে গিয়েছিলেন?’’

অরূপের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শতদ্রু। তিনি আদালতে দাবি করেছেন, মোট ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল মেসির সফরের জন্য। শতদ্রুর দাবি, তার মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ একাই নিয়ে নিয়েছিলেন। অন্যত্র তা বিক্রিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে অরূপকে নোটিস দিয়েছিল পুলিশ। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রথম হাজিরা এড়ান। এর পর গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন অরূপ। পরে দ্বিতীয় হাজিরাও এড়িয়ে যান। রক্ষাকবচের পর তৃতীয় নোটিসে তিনি সাড়া দেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল।

শতদ্রুর অভিযোগ, অরূপ যে টিকিটগুলি নিয়েছিলেন, তা তাঁর পরিচিতদের বিলি করার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও করেছেন। তা ছাড়া অনুষ্ঠানে যাবতীয় বিশৃঙ্খলার জন্য অরূপকে দায়ী করেছেন তিনি। পুরো ঘটনার তদন্ত চান মেসি-কাণ্ডের দিন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া শতদ্রু। এই সমস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অরূপকে নোটিস দিয়েছিল পুলিশ। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রথম বার হাজিরা এড়ান। তার পর গ্রেফতারির আশঙ্কা করে হাই কোর্টে গিয়ে রক্ষাকবচ পান। রক্ষাকবচের আগেই অবশ্য পুলিশের তৃতীয় নোটিস পৌঁছে গিয়েছিল অরূপের কাছে। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিলেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন