ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, ঘরের দেওয়াল শুধুমাত্র একটি কাঠামো নয়, এটি ইতিবাচক শক্তির আধার। দেওয়ালে নোনা ধরা বা স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকা বাস্তুদোষ হিসাবে গণ্য করা হয়। এর ফলে ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে। বাস্তুমতে, দেওয়ালে নোনা ধরলে কী কী ক্ষতি হতে পারে এবং তার প্রতিকার নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, দেওয়াল চুঁইয়ে জল পড়া এবং স্যাঁতসেঁতে ভাবকে অর্থের অপচয় বা জলের মতো টাকা বয়ে যাওয়ার প্রতীক বলে মনে করা হয়। ঘরে নোনা ধরলে সঞ্চিত অর্থ কোনও না কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে খরচ হয়ে যেতে পারে। ব্যবসায় মন্দা বা কর্মক্ষেত্রে আর্থিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি হয়।
দেওয়ালের স্যাঁতসেঁতে ভাব এবং নোনা ধরার ফলে ঘরের পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ, খিটখিটে মেজাজ এবং অবসাদ দেখা দিতে পারে। বিনা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ ও অশান্তি তৈরি হয়।
যদি বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকের দেওয়ালে নোনা ধরে, তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হয়। উত্তর দিক হল কুবেরের দিক। এখানে নোনা ধরলে কেরিয়ারের ক্ষতি হয়। এমনকি, কোনও কোনও ক্ষেত্রে উপার্জনের পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পূর্ব দিক হল সম্মানের দিক। এই দিকের দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকলে সমাজে মান-সম্মানহানি বা পরিবারের সদস্যদের যশের ক্ষতি হতে পারে।
দেওয়ালে কোথাও লিক থাকলে বা জল চুঁইয়ে পড়লে তা দ্রুত সারিয়ে ফেলা উচিত। রঙের প্রলেপ ওঠার আগেই ড্যাম্প-প্রুফিং বা ওয়াটার-প্রুফিং-এর মাধ্যমে নোনা ধরা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাস্তুমতে, ঘর মোছার জলে সামান্য রক সল্ট মিশিয়ে তা দিয়ে নিয়মিত ঘর মুছলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।
ঘরের কোণে বা স্যাঁতসেঁতে জায়গার আশপাশে কর্পূর রাখলে বাতাস শুদ্ধ হয় এবং নেতিবাচকতা কমে।
বাড়ির প্রতিটি ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে।