ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)
অন্দরসজ্জার জন্য আমরা অনেকেই বাড়ির দেওয়ালে নানা ধরনের শোপিস, নকশা করা ঘড়ি অথবা ছবির মতো বহু জিনিস টাঙিয়ে রাখি। সেই জিনিসগুলি দৃষ্টিনন্দন হলেও অজান্তেই তা বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রবাহকে আকর্ষণ করে। সংসারে দেখা দেয় নিত্য অশান্তি। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, সেই জিনিসগুলি বাস্তুদোষও ডেকে আনে। দেওয়ালে কোন জিনিস টাঙালে তা বাস্তুমতে অশুভ বলে গণ্য করা হয় সেগুলি নিয়ে নীচে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
পূর্বপুরুষদের ছবির ভুল অবস্থান
শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অনেকেই ঘরে পূর্বপুরুষদের ছবি রাখেন। তবে তা ভুল দেওয়ালে টাঙালে বাস্তুদোষ হয়। বাস্তুমতে, তাঁদের ছবি সব সময় দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে টাঙানো উচিত, যাতে ছবির মুখ উত্তর দিকে থাকে। ঘরের মন্দিরে অথবা দেব-দেবীর মূর্তির সঙ্গে পূর্বপুরুষদের ছবি কখনও রাখবেন না।
ভাঙা আয়না
দেওয়ালে কখনও ভাঙা, ফাটল ধরা বা ঘোলাটে আয়না টাঙিয়ে রাখবেন না। আয়না সব সময় পরিষ্কার হওয়া উচিত এবং শোয়ার ঘরে খাটের ঠিক সামনে আয়না টাঙানো উচিত নয়। ঘরের এমন দিকে আয়না রাখুন যেন ঘুমোনোর সময় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা না যায়।
শুকনো ফুলের ছবি
ক্যাকটাস বা কোনও কাঁটাঝোপের ছবি অথবা শুকনো ফুল-পাতার ছবি দেওয়ালে বা তার কাছাকাছি রাখবেন না। এই জিনিসগুলি সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা এবং আর্থিক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।
তাজমহল বা ডুবন্ত জাহাজের ছবি
তাজমহল দেখতে সুন্দর হলেও আদতে এটি একটি সমাধিক্ষেত্র। ঘরের দেওয়ালে সমাধির ছবি রাখলে নেতিবাচক শক্তি বাড়ে। তা ছাড়া, ডুবন্ত বা দুর্যোগে পড়া জাহাজের ছবি ব্যবসার ক্ষতি বা আর্থিক অনটনের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়।
বন্ধ বা ভাঙা ঘড়ি
দেওয়ালে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা ঘড়ি বা ভাঙা কাচের ঘড়ি বাস্তুদোষ তৈরি করে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বন্ধ ঘড়ি প্রগতির পথ স্তব্ধ করে দেয় এবং জীবনের ইতিবাচক সময়কে থমকে দেয়। তাই ঘড়ি নষ্ট হলে দ্রুত তা সারিয়ে নিন বা দেওয়াল থেকে সরিয়ে ফেলুন।
হিংস্র পশুপাখি বা যুদ্ধের ছবি
সিংহ, বাঘ, চিতা, বা শকুন-ইগলের মতো শিকারি পাখির ছবি অথবা মূর্তি দেওয়ালে লাগাবেন না। কোনও যুদ্ধের ছবি, কান্নার ছবি অথবা কঙ্কালের ছবি দেওয়ালে টাঙানো বাস্তুমতে অশুভ বলে মনে করা হয়। এই ছবিগুলি ঘরে অশান্তি এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ বাড়ায়।