ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
রাজ্যের সংশোধনাগারে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে বড় সংখ্যক কয়েদির জামিনের পথে হাঁটবে আদালত। রাজ্যের জেলের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এমনটাই বলল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘জেলে বন্দি সংখ্যার তুলনায় পরিকাঠামোর উন্নতি না হলে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করবে আদালত। যদি ১০০০ জনের জেলে ৩০০০ জন বন্দি থাকেন, তা হলে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তখন আদালত প্রয়োজনে ব্যাপক হারে জামিন দিতে পারে।’’
জেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি বসাকের পর্যবেক্ষণ, জেলের পরিকাঠামো নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে আদালতের একাধিক নির্দেশ কার্যকর হয়নি। হাই কোর্ট জানায়, এমন অব্যবস্থাকে রাজ্য যদি নীতি হিসেবে ধরে, তবে তা স্পষ্ট করতে হবে। না হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দায় নিতে হবে। বুধবার আবার এই মামলার শুনানি হবে। সেখানে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে রাজ্যকে।
মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, গত চার-পাঁচ বছরে রাজ্যের জেলে ৯০৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অথচ ওই ঘটনায় কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। ২০১৮ সালে ৪২ জনের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ এবং কর্মী নিয়োগের নির্দেশ এখনও কার্যকর হয়নি। বর্তমানে রাজ্যের জেলগুলিতে ২১৯টি মেডিক্যাল অফিসারের পদের মধ্যে ১৪৯টি ফাঁকা রয়েছে।
তার পরেই হাই কোর্ট জানিয়েছে, জেলে বন্দিদের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তারা সক্রিয় হবে।