SIR Related Death in Saudi

সৌদিতে ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যু! শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে স্বামীর চরম পরিণতির খবর পেলেন স্ত্রী

পরিবারের দাবি, বাড়িতে নোটিস যাওয়ার খবর পেয়ে সুদূর সৌদিতে বসে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। নথির ভুলে নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়বেন কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪২
SIR Related Death In Bengal

(বাঁ দিকে) ইব্রাহিম শেখ। স্ত্রী রেকসোনা বিবি (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।

এসআইআর শুনানিতে ডাক পড়েছে। বিদেশবিভুঁইয়ে বসে সেই খবর পাওয়ার পর থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন ৩২ বছরের এক পরিযায়ী শ্রমিক। মঙ্গলবার তাঁর নথিপত্র নিয়ে যখন শুনানিকেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে স্ত্রী, তখনই এল মৃত্যুসংবাদ! ‘এসআইআর আতঙ্কে’ আবার মৃত্যুর অভিযোগ রাজ্যে। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে আবার শোরগোল মুর্শিদাবাদে।

Advertisement

মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার হিজল নতুনপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ কর্মসূত্রে ছিলেন সৌদি আরবে। মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যুসংবাদ পায় পরিবার। জানা গিয়েছে, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। কান্দি ব্লকের শুনানিকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নথি হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ইব্রাহিমের স্ত্রী ফোনে খবর পান, তাঁর স্বামী আর নেই। এক হাতে নথি, অপর হাতে মোবাইল ধরে মিনিটখানেক দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। তার পর চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। লোক জড়ো হয়ে যায় শুনানিকেন্দ্রে। শোকস্তব্ধ মহিলাকে বাড়ি পৌঁছে দেয় পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকায় দেওয়া তথ্যে কিছু গরমিল ছিল ইব্রাহিমের বাবার। সে জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছিল পুত্রকে। স্বামী বিদেশে থাকায় স্ত্রী রেকসোনা বিবি নথি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন শুনানিকেন্দ্রে।

পরিবারের দাবি, বাড়িতে নোটিস যাওয়ার খবর পেয়ে সুদূর সৌদিতে বসে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। নথির ভুলে নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়বেন কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন। স্বামীর নথিপত্র নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্ত্রী।

ওই খবর চাউর হতে কান্দি ব্লকে শোরোগোল শুরু হয়ে গিয়েছে। মৃতের বাড়ি যান কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার এবং কান্দি থানার পুলিশ আধিকারিকেরা। শুনানিকেন্দ্র থেকে রেকসোনাকে গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দেয় পুলিশ। মৃত ইব্রাহিমের আত্মীয় রহমত শেখের আক্ষেপ, ‘‘বেচারা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটত শুধু বাড়ির লোকগুলোকে একটু ভাল রাখবে বলে। একটা নোটিস ওর সব শান্তি কেড়ে নিয়েছিল। ও বার বার বলত, ‘কাগজে ভুল আছে।’ সে দিন ফোনে বলেছে, ‘আমাকে কি আর দেশে ফিরতে দেবে না?’ এই দুশ্চিন্তাই ওকে শেষ করে দিল।’’

দুই সন্তানকে নিয়ে অথৈ জলে রেকসোনা। বিধায়ক অপূর্ব জানান, সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই তাঁর কাছে। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনিক উদ্যোগে ইব্রাহিমের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’’ কান্দি থানার পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের পরিবারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারা।

Advertisement
আরও পড়ুন