অভিযোগ, প্রেসক্রিপশনে লেখা জানার চেষ্টা করতে গিয়ে হাসপাতালে অপমানিত হয়েছেন রোগীর আত্মীয়! —নিজস্ব ছবি।
চিকিৎসার গাফিলতি এবং প্রশাসনিক অপেশাদারিত্বের অভিযোগে বিদ্ধ শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল। ডাক্তারবাবুর লিখে দেওয়া প্রেসক্রিপশন বুঝতে পারছেন না ওষুধ বিক্রেতারা, সে নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে হাসপাতালের সুপারের কাছে অপমানিত হতে হয়েছে রোগীর পরিবারকে। এমনই অভিযোগ উঠল মঙ্গলবার।
শিলিগুড়ির বাসিন্দা দীপালি সরকার চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ জানুয়ারি বহির্বিভাগের পরিষেবা বন্ধ থাকায় তাঁকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একটি ওষুধ লিখে দিয়ে ওষুধের দোকান থেকে কিনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রোগীর আত্মীয় বিশ্বজিৎ তালুকদারের দাবি, ওই প্রেসক্রিপশন নিয়ে শহরের একাধিক ওষুধ দোকানের ঘুরেও ওষুধ কিনতে পারেননি। কারণ, ডাক্তারবাবুর লেখার পাঠোদ্ধার করতে পারেননি কোনও ওষুধ দোকানদার।
টানা দু’দিন সরকারি ছুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেননি দীপালি। মঙ্গলবার বিশ্বজিৎ প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে হাসপাতালের সুপার চন্দন ঘোষের দ্বারস্থ হন। রোগীর ওই আত্মীয়ের অভিযোগ, ‘‘সমস্যার সমাধান করা তো দূরের কথা, উল্টে প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন সুপার। তার পর ‘যা করার করে নাও’ বলে ধমকি দেন।” হাসপাতালের অন্য চিকিৎসকেরাও ‘এটা ছোট হাসপাতাল’ বলে দায় ঝেড়ে ফেলে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে এমন কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। পুরো বিষয়টিই ভিত্তিহীন। তবে অভিযোগ লিখিত আকারে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
অস্বস্তির মুখে পড়ে আগামী রবিবার আবার ওই রোগীকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালের অসহযোগিতায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনেরা।