SIR in West Bengal

এসআইআরের ডাক: সদ্যবিধবা, হবু বর থেকে একশো পার করা বৃদ্ধা লাইনে! অব্যাহত ‘আতঙ্কজনিত’ মৃত্যু

মঙ্গলবার রাজ্যে আরও তিন জনের মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। তৃণমূল দুষছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে। পাল্টা বিজেপির তোপ তৃণমূলকে। রাজনৈতিক তরজার মধ্যে চলছে শুনানিপ্রক্রিয়া।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১১
SIR Notice

এসআইআরের লাইনে সদ্যবিধবা, হবু বর এবং একশো পার করা বৃদ্ধা। —নিজস্ব ছবি।

শোকসন্তাপ, আনন্দ-উৎসব, জরা-ব্যাধি, সব মিলেমিশে একাকার। সকলেই লাইনে। সৌজন্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন, এসআইআর। মঙ্গলবার রাজ্যের তিন জেলায় তিন ভোটারকে দেখা গেল তিন অবস্থায়।

Advertisement

হুগলির শ্রীরামপুরের কেসি সেন রোড অম্বেডকর সরণির বাসিন্দা পাপিয়া সাহা রায়। শ্রীরামপুর বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ভোটার প্রৌঢ়ার স্বামী গত হয়েছেন রবিবার রাতে। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মানব রায়। স্বামীর মৃত্যুশোকের মধ্যে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে সদ্যবিধবা দাঁড়িয়েছেন শুনানির লাইনে। বুধবার সাদা থানা পরে এসআইআর শুনানিতে হাজির হলেন প্রৌঢ়া। ধীরে ধীরে বললেন, ‘‘ওর সঙ্গেই শুনানিতে আসার কথা ছিল। হঠাৎ করে একা করে দিয়ে চলে গেল!’’ অশৌচের মধ্যেও ছাড়় পাওয়া গেল না? বিধবা বলেন, ‘‘আবার অন্য কোনও দিন শুনানির তারিখ দেবে কি না, জানি না। ঝুঁকি নিলাম না।’’

বৃদ্ধার অবস্থা দেখে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে তোপ দাগে তৃণমূল। শাসকদলের কটাক্ষ, মানুষের জন্য এসআইআর। তাই মানুষকেই হয়রানি করতে হবে। এতেই নাকি দেশের মঙ্গল! এ নিয়ে বিজেপির তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করেনি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের আনোয়ার হোসেন খান জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনেই দৌড়োলেন শুনানিকেন্দ্রে। তাঁর সঙ্গে আরও ৩৮ জন। এসআইআরের নামে হয়রানির অভিযোগ করেন সমস্বরে।

ডায়মন্ড হারবার-১ ব্লকের বোলসিদ্ধি কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আনোয়ারের বিয়ে মঙ্গলবার। মঙ্গলবারই শুনানিতে ডাক পড়ে তাঁর। বিয়ের শেরওয়ানিতেই শুনানিকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়ালেন হবু বর। শুধু আনোয়ারই নন, বরযাত্রীদের মধ্যেও মোট ৩৮ জন এই একই দিনে শুনানির জন্য লাইনে ছিলেন। বিয়ের আয়োজন ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু করার তো কিছু নেই! বললেন হতাশ বর।

মুর্শিদাবাদের নওদার শ্যামনগরে বাড়ি মাজেরা বেওয়ার। বৃদ্ধার বয়স ১০৪ বছর। ঝুঁকে হাঁটেন। বুধবার লাঠি ঠুকিয়ে ঠুকিয়ে তিনিও হাজির হয়েছিলেন শুনানিকেন্দ্রে। ফোকলা হাসি হেসে বৃদ্ধা বললেন, ‘‘আমার ছয়ের বেশি সন্তান। তাই ডাক এসেছে। প্রমাণ দিতে হবে তাদের সকলকে পেটে ধরেছিলাম।’’

বুধবার দুপুর পর্যন্ত রাজ্যে আরও তিনটি মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্রত্যেক পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কে প্রাণহানি হয়েছে। নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা আহিবা শেখ (বিবি) মারা গিয়েছেন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে। পরিবারে দাবি, শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর থেকে আতঙ্কিত ছিলেন প্রৌঢ়া। মঙ্গলবার কল্যাণীর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক চাপানউতর চলছেই।

কোচবিহারের মাথাভাঙা, শীতলখুচির পর দিনহাটায় ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মারা গিয়েছেন এক ব্যক্তি। দিনহাটা-২ ব্লকের নাজিরহাটের শিকারপুরের ৭/২১ নম্বর বুথের ভোটার মিঞার মৃত্যুতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, ‘‘আমার দিনহাটা-সহ গোটা রাজ্যে মানুষ মরছে। কারণ, এসআইআর। এর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন।’’

মালদহের নিকচকের নুরপুর নিচু তিওরপাড়ার এলাকার শেখ শরিফুলের মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআরকে দায়ী করেছে পরিবার। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শরিফুলের নাম ঠিকই ছিল। কিন্তু দুই পুত্রের ভোটার কার্ডে পিতার নামের বানান ভুলের কারণে বাড়িতে যায় এসআইআর নোটিস। মঙ্গলবারই ছিল শুনানির দিন। তার আগেই মারা গেলেন শরিফুল

Advertisement
আরও পড়ুন